বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রুশ সরকারের ভুলনীতিতে সিরিয়া সংকটের সমাধান হচ্ছে না: ওবামা

obama..সিরিয়ায় রুশ সরকারের ভুল নীতির কারণে সেখানে রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

ওবামা বলেন, রাশিয়ার লক্ষ্য যেকোনভাবেই হোক আসাদকে ক্ষমতায় রাখা। তাই তারা আইএসের নামে সব আসাদবিরোধীদের উপরেই হামলা চালাচ্ছে। মনে হয় না খুব শিগগিরই তাদের এ আচরণ বন্ধ হবে। তারা এটা বন্ধ করলে ভিয়েনা আলোচনান সফলতার মুখ দেখতো। আশা করি, অচিরেই রুশ সরকার মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোটে যোগ দেবে।

এরইমধ্যে আইএস জঙ্গিদের দমনে ইরাকে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট বিরোধী যুদ্ধের অনুমোদন দিয়েছে জার্মান সংসদ।

মঙ্গলবার সিরীয় সেনাবাহিনী প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হোমস প্রদেশের কারিয়াতিন এবং লাতাকিয়া প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে সামরিক বাহিনী। অভিযানে আইএসসহ বহু বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলেও ভিডিওতে দাবি করা হয়।

এরই মধ্যে জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষে আইএস বিরোধী যুদ্ধে দেশটির অংশগ্রহণের অনুমোদনে বিল পাশ হয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির আহবানে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার জার্মানি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে জার্মান সংসদের বামপন্থি ও গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্যরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, সামরিক উপায়ে আইএসকে দমন করা সম্ভব নয়।

এদিকে বারাক ওবামা বলেছেন, সিরিয়ায় রুশ সরকারের ভুল নীতির কারণেই সেখানে কোন ধরনের রাজনৈতিক সমাধান আসছে না। প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে সফররত ওবামা রাশিয়া সরকারকে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আইএসবিরোধী জোটে যোগ দেয়ারও আহবান জানান।

এছাড়া ইরাকে আইএস জঙ্গিদের নির্মূলে বিশেষ বাহিনী পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে এই বাহিনীর সদস্যরা স্থলযুদ্ধে অংশ না নিয়ে শুধুমাত্র ইরাকি ও কুর্দি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে বলে সিনেট শুনানিতে জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার। বলেন, ‘আমরা ইরাকে স্থানীয় বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। যাতে তারা নিজেরাই আইএসকে হারিয়ে দিতে পারে। তবে মার্কিন বিশেষ বাহিনী কয়েকটি বিশেষ দায়িত্ব পালনও করবে। এটি সেখানে বন্দী মুক্ত করবে, আইএসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করবে এবং সিরিয়ায় ঝটিকা হামলা চালাবে।’

ইরাকে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। যারা ইরাকে মার্কিন নাগরিক ও স্থাপনাগুলো রক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

আরও পড়ুন