গত পাঁচ বছরে রেলখাতে সরকারের লোকসান হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। যার পুরোটাই দিতে হয়েছে ভতুর্কি। তবে এই ভতুর্কি কমাতে নেই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। রেলমন্ত্রী বলছেন, লাভ-লোকসান বড়ো কথা নয়, জনগণ গুনগত সেবা পেল কিনা সেটাই মূল বিষয়। আর যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপচয় আর দুর্নীতি ঠেকানো না গেলে রেলখাতে লোকসান বাড়বেই।
দেশে ২৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথে চলাচল করে প্রায় ৩০০টি ট্রেন। লোকবল আছে প্রায় ২৫ হাজার। যাতায়াতের এই সেবা খাত পরিচালনায় সরকারকে বছরে গড়ে খরচ করতে হয় ১৬০০কোটি টাকা। এর বিপরীতে গড়ে আয় হয় ৮০০ কোটি টাকা।
রেলওয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯-২০১০ সালে লোকসান প্রায় ৭শ কোটি টাকা। এর পরের বছের তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬২ কোটি টাকা। ২০১১-২০১২ সালে প্রায় ৯শ ৬৪ কোটি, ২০১২-২০১৩ সালে সাড়ে ৭শ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়।
আর ২০১৩-২০১৪ সালের সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রেল চালাতে সরকারের খরচ হয়েছে ১৬শ কোটি টাকা। আয় হয়েছে ৮শ কোটি টাকার কিছু বেশি।
প্রতি বছরে রেলখাতে সরকারের মোট খরচের এক তৃতীয়াংশ যায় বেতনভাতা খাতে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। এরপর ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয় পুন নির্মান ও রক্ষনাবেক্ষনে। আর জ্বালানি তেল বাবদ খরচ ৩৩৬ কোটি টাকা।
বছর বছর এ বিপুল পরিমাণ লোকসান কমাতে কী পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার? জানতে চাওয়া হয় রেলমন্ত্রীর কাছে।
তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার রেলখাতে যে পরিমান খরচ দেখায় তাতে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। রক্ষণাবেক্ষণ ও তেল ব্যবহারের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে লোকসান অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ।
রেলকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে বিনা টিকিটে ভ্রমণ রোধ ও রেলের নিজস্ব সম্পদ বানিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পরামর্শও দিলেন এই বিশেষজ্ঞ।


