বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফেনীতে ৩৩ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

index_17810পৌরসভা নির্বাচনে ফেনীর তিনটি পৌরসভায় সাধারণ ও সংরক্ষিত মিলিয়ে ৪৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হচ্ছেন।বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ফেনী সদর, পরশুরাম ও দাগনভূঞা পৌরসভায় ৩৩টি ওয়ার্ডে মাত্র একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল না হলে ভোট ছাড়াই এরা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। প্রার্থীদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ যুবলীগ-সমর্থিত। তবে ফেনীর তিন পৌরসভাতেই মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, মেয়র পদে এবার দলীয়ভাবে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলর পদটি নির্দলীয়।

এ ব্যাপারে ফেনী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেন, সব জায়গায় বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর কারনে দলের নেতা-কর্মীরা তিনটি পৌরসভার ৩৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি।

তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে ফেনী জেলা আ.লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, কেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র জমা দেননি, সেটি তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি জানান, যেসব ওয়ার্ডে একক প্রার্থী রয়েছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দল-সমর্থিত প্রার্থী।

জানা গেছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া ৩৩জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৫জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং আটজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর। এর মধ্যে ফেনী পৌরসভায় ২৪টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ১৬টিতে, পরশুরাম পৌরসভায় ১২টির মধ্যে ১০টিতে এবং দাগনভূঞা পৌরসভায় ১২টির মধ্যে সাতটিতে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এব্যাপারে ফেনী পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ফেনী পৌরসভার ১৮টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের মধ্যে ১২টিতে এবং ছয়টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের মধ্যে চারটিতে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক সাংবাদিকদের বলেন, একটি পৌরসভার ১৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তার মানে, এঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবেন। এটি অবিশ্বাস্য। এ বিষয়ে আজ নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন