বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসছেন না তারেক রহমানের চাচী শাশুড়ি সুরাইয়া খান। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বার বার সমন পাঠানোর পরও তিনি সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হচ্ছেন না। এদিকে আইনজীবীরা মামলার স্বার্থে তার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন মনে করলেও দুদকের পক্ষ থেকে তাকে হাজির করার কোনো উদ্যোগ নেই।
সুরাইয়া খানের কাছ থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য ৬ শহীদ মঈনুল রোডের ৪২ কাঠা জমি ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সুরাইয়া খানকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তিনবার সমন পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাচী শাশুড়ি সুরাইয়া খানের কাছ থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য জমি কেনা হয়। ৬ শহীদ মঈনুল রোডের ৪২ কাঠা জমি ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকায় কিনেছিলেন।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিবেদন আছে, তিনি বয়ষ্ক ও অসুস্থতাজনিত কারণে হাজির হতে পারছেন না। বর্তমানে তার বয়স ৯০-এর কাছাকাছি।’
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জমির মালিক সুরাইয়া খানকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কয়েকবার সমন পাঠানো হয়েছে। তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসছেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে কে সাক্ষ্য দিতে আসবে আর কে আসবে না, তা আমাদের দেখার বিষয় না। তবে তিনি আদালতে সাক্ষ্য না দিলে মামলার প্রমাণে কোনো প্রভাব পড়বে না।’
খালেদার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে সুরাইয়া খানের কাছ থেকে জমি কেনা হয়। মামলার স্বার্থে তার সাক্ষ্যগ্রহণ অতি জরুরি।’
বর্তমানে ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদ্দারের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ২৬ জন সাক্ষ্য দেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


