বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুদ্ধাপরাধ: সরাসরি জড়িত না থাকলেও উসকানির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন নিজামী

Nizami_অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িত না থাকলেও উসকানির দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে। নিজামীর আপিলের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মাহবুবে আলম।

এর আগে নিজামীর আপিলের শুনানি শেষে আগামী ৬ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। রায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড হবে কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা বলেন, ‘তৎকালীন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত মতিউর রহমান নিজামীর লেখায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বদর বাহিনী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। এ ছাড়া এ মামলায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রয়োজন নাই। বরং পরিকল্পনা, উসকানি দিলেও ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া যাবে।’

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী বলেন, ‘নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় নিজামী দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় একটা লেখা লিখেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছেন—শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ো। হিন্দুস্তান থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে।’

মাহবুবে আলম আরো বলেন, ‘নিজামী ১৯৭১ সালে নভেম্বর মাসে ছাত্রসংঘের দায়িত্বে ছিলেন না। কিন্তু তিনি আলবদর বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে।’

‘বুদ্ধিজীবী হত্যায় নিজামীর অধীন মুজাহিদ-কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে। লিডার বা নেতা হিসেবে যদি নিজামীর ফাঁসি না হয়, সারা দেশের মানুষ হতাশ হবে। তাই আমি মনে করি, বদর বাহিনীর নেতা নিজামী সর্বোচ্চ শাস্তি হবে’, যোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আজ সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ নিজামীর রায়ের দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন—বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেন নিজামীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবীরা। যুক্তিতর্ক শেষে তাঁরা নিজামীর বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে শাস্তি কমানোর আবেদন জানান।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন মতিউর রহমান নিজামী। এর পর একই বছর ২৩ নভেম্বর ১৬৮টি যুক্তি দেখিয়ে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন নিজামীর আইনজীবীরা।

আরও পড়ুন