রবিবার ১১ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

অষ্টম পে স্কেল কার্যকরের আদেশ এক সপ্তাহের মধ্যেই


NEWSWORLDBD.COM - December 9, 2015

Pay-Muhith-এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের আদেশ জারি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বেতন কাঠামো কার্যকরের আদেশ আইন মন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমাণ রয়েছে। আজ-কালের মধ্যে তা অর্থ মন্ত্রণালয় আসবে। এরপরই আদেশ জারি হবে। বর্ধিত বেতন কাঠামোর আদেশ এ সপ্তাহের মধ্যেই স্বাক্ষর হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটাই শেষ বেতন কাঠামো। আর বাড়ানো হবে না। অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।

মুহিত জানান, তাছাড়া বেতনের গ্রেড নিয়ে শিক্ষকদের মনোমালিন্যও দূর হয়েছে। দু’দফায় বাড়া বেতন কাঠামোর বাকি অংশ জুলাইয়ে কার্যকর হবে। জুলাইয়ে কার্যকর হওয়া বেতনের একাংশের টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক সঙ্গেই পাবেন। বেতন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পরবর্তী ৫ বছর অন্তর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বেতন-ভাতা বাড়ার একটি নির্দেশনা থাকবে।

তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার হবে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। আগে ৯১-৯২ হাজার কোটি টাকার বাজেট হতো। এখন তা ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বাজেটে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে মানবসম্পদ খাত প্রাধান্য পাবে। এর সঙ্গে প্রাধান্য পাবে সামাজিক নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের জাতিসংঘের বিশেষ কমিটির সভায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আমাদের ধারণা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বাংলাদেশকে উন্নত দেশগুলোর অর্থ দেয়ার ব্যাপারে এরকম আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কেউই ক্ষতিপূরণ দেয় না। দেশ এখন উন্নয়নের তরিতে যাত্রা করছে। সিলেটে সরকারের উন্নয়নের আরেক নিদর্শন হবে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে বিনোদন পার্ক। কারাগার স্থানান্তরের পর এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। কারাগারে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সেলকে করা হবে ‘বঙ্গবন্ধু জাদুঘর’।

এ সময় অর্থমন্ত্রী মদন মোহন কলেজের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে আসছেন- এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অর্থমন্ত্রী তার ভাই জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবুল মুমেনকেও উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলন ও কর্মিসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিলুপ্ত হওয়ায় বিকল্প সুবিধা হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের কিছু সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

নয়া এই পে স্কেলে নির্ধারিত একটি সময় অন্তর নবম থেকে তদূর্ধ্ব চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ধাপ ওপরে ওঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগের নিয়মের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের চাকরি জীবনে দুইটি পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরপরই বেতন গ্রেড স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপরে উঠবে এক ধাপ। এর ছয় বছর পর অর্থাৎ চাকরির মেয়াদ ১৬ বছর পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড আরেকবার এক ধাপ ওপরে উঠবে।

এছাড়া সিনিয়র সচিবদের সমান বেতন নির্ধারণ করা হতে পারে জাতীয় অধ্যাপকদের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থমন্ত্রীর পাঠানো একটি প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিকল্প হিসেবে উল্লেখিত সুবিধা সংবলিত ওই সারসংক্ষেপ ২২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠান অর্থমন্ত্রী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সেটিতে অনুমোদন দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন তৈরি ও ছাপার প্রস্তুতি চলছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে আসার পর এটি সর্বশেষ দেখানো হবে প্রধানমন্ত্রীকে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরির মেয়াদ তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর অষ্টম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার বেতন স্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সপ্তম গ্রেডে চলে যাবে। চার বছর পূর্ণ হলে সেখান থেকে উন্নীত হবেন ৬ষ্ঠ গ্রেডে। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তিনি ৬ষ্ঠ থেকে উন্নীত হবেন ৫ম গ্রেডে। ১০ বছর চাকরির পর ওই কর্মকর্তা পঞ্চম থেকে ৪র্থ গ্রেডে উন্নীত হবেন।

একইভাবে চতুর্থ গ্রেডে চাকরির মেয়াদ ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তার গ্রেড পরিবর্তন হয়ে ৩য় গ্রেডে উঠবে। আবার তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় গ্রেডে যেতে পূর্ণ করতে হবে ১৪ বছর। একইভাবে ১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম গ্রেডে উন্নীত হবেন। তবে চতুর্থ গ্রেডের পর থেকে পদোন্নতি হবে পদশূন্যতার বিবেচনায়।

সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ার পর অনেকেই শুধু পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হবেন না বরং উচ্চতর বেতন থেকেও বঞ্চিত হবেন। এটি মোটেও কাম্য নয়। সেজন্য আমি একটি বিকল্প প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়েছি। তদনুযায়ী সন্তোষজনক চাকরি করার বিভিন্ন শর্ত পূর্ণ করলে যে কোনো কর্মচারী এ ব্যবস্থায় অন্তত ২টি পদোন্নতি সম্বন্ধে নিশ্চিত হবেন। এতে মনে হয়, নবম গ্রেডের নিচে যারা চাকরি করেন তাদের আর কোনো ক্ষোভের কারণ থাকবে না।’

এছাড়া বিদ্যমান যেসব ক্যাডারে একশ’র বেশি সদস্য আছে সেগুলোতে প্রথম গ্রেডের একটি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ পরিবার পরিকল্পনা, কারিগরি শিক্ষা, সমবায়, ইকোনমিক, পরিসংখ্যান ও টেলিকমে একটি করে ৬টি প্রথম গ্রেডের পদ সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত এই ৬টি পদ সৃষ্টি করা হলে প্রথম গ্রেডের পদের সংখ্যা ৩৮টি হবে।
একইভাবে আনসার, সড়ক ও জনপথ, সাধারণ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, ডাক, গণপূর্ত, খাদ্য ও বন এগুলোতে দ্বিতীয় গ্রেডের একটি করে পদ সৃষ্টির সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

দ্বিতীয় গ্রেডের নতুন ১০টি পদ সৃষ্টি করা হলে এ গ্রেডে মোট পদের সংখ্যা হবে ১০১টি। এছাড়া সমবায় ও পরিসংখ্যান ক্যাডারে তৃতীয় গ্রেডের পদ একটি করে মোট দুটি সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২৪টি পদ রয়েছে তৃতীয় গ্রেডের।

অর্থমন্ত্রী সারসংক্ষেপে তার বক্তব্যে বলেন, চতুর্থ গ্রেডে বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ২৫২ জন কর্মরত রয়েছেন। এর সঙ্গে ১৭৬টি নতুন পদ সৃষ্টির ফলে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪২৭টি। এই পদের তিন শতাংশ চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন। এতে প্রশাসন ক্যাডারে ৫ম থেকে ৪৫টি পদ চতুর্থ গ্রেডে আসবে। এছাড়া কৃষি ক্যাডারে ৩৬টি পদ চতুর্থ গ্রেডে থাকবে। কারিগরি শিক্ষায় চতুর্থ গ্রেডের পদ সংখ্যা পরিবর্তন না করে ৩০টি পদ হবে। প্রাণিসম্পদে মোট পদসংখ্যা থেকে ৪০টি পদ চতুর্থ গ্রেডে থাকবে। মৎস্য ক্যাডারেও একই শর্তে ২৫টি পদ চতুর্থ গ্রেডে থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়, এসব ক্যাডারে নিযুক্ত ও পদায়ন নীতিমালাকে ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করে উল্লেখিত পদগুলো ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়। ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামোর ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ উঠতে থাকে।

বিশেষ করে প্রকৃচি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বিসিএস শিক্ষক সমিতি, ২৬টি ক্যাডার সমিতি বেতনভাতার বিষয়ে বেশকিছু আপত্তি তুলে ধরে। এ প্রেক্ষাপটে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ মন্ত্রিসভা কমিটিকে পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই কমিটি বৈঠক করে নতুন পে-স্কেল নিয়ে ইতিবাচক একটি সমাধানের পক্ষে অভিমত দিয়েছে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.