বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

চলচ্চিত্র পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে

Nasir-Uddin-Yousuf-Bacchuনাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

‘চলচ্চিত্রের মান নষ্ট হয়ে গেছে। নকল ছবির প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের চলচ্চিত্র। সিনেমা হলের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ থেকে নেমে এসেছে প্রায় ২০০-তে। অন্যদিকে, ছবি মুক্তির দুই-তিন দিনের মাথায় পাইরেসি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে’, এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন চলচ্চিত্র পরিচালক নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘একটি দেশের চলচ্চিত্র দেখলে বোঝা যায়, ওই দেশের মানুষের জীবনযাত্রা কেমন। কোন ধরনের কৃষ্টি-কালচার তারা লালন করে। বিশ্বের দরবারে নিজের দেশকে তুলে ধরে একটি চলচ্চিত্র। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু একটি হত্যা নয়, একটি জাতির অস্তিত্বকে নষ্ট করার প্রথম পদক্ষেপ এটি। পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশে দোয়া মাহফিল, ওয়াজ মাহফিলের সংখ্যা বেড়ে যায়। মসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়তে থাকে। খেলার মাঠ কমতে থাকে। ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের সংস্কৃতিচর্চাকে বলা হতে থাকে নাজায়েজ কাজ। অভিভাবক হয় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো মানুষ। সাধারণ মানুষকে তারা বোঝাতে থাকে, যাত্রা করে ফাত্রা লোকে। সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় ফাত্রা লোক হিসেবে।’

নাসির উদ্দীন ইউসুফ আরো যোগ করেন, ‘এদের কারণে চলচ্চিত্র হয়ে যায় নাজায়েজ কাজ, দর্শক হলবিমুখ হতে থাকে। সেই বিশেষ গোষ্ঠী নব্বইয়ের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে, তারাই সরকার পরিচালনা শুরু করে, আর চলচ্চিত্রে প্রবেশ করে অশ্লীলতা। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র থেকে অশ্লীলতা বন্ধ হয়, শুরু হয় নকল ছবির প্রভাব। অন্য দেশের গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণের সঙ্গে হারাতে থাকে আমাদের চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য। চলছে পাইরেসি। সরকার অনেক চেষ্টা করছে সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করতে, পাইরেসি বন্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিতে; কিন্তু আমাদেরও তো কিছু দায়িত্ব আছে দেশ ও মানুষের কল্যাণে।’

আরও পড়ুন