বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালকে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে এই অভিযান চালায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে র্যাব ২-এর একটি বিশেষ দল আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পান্থপথে অবস্থিত স্কয়ার হাসপাতালে অভিযান চালায়।
দুই ঘণ্টাব্যাপী স্কয়ার হাসপাতালে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে দেখা যায়, কোনো অনুমোদন ছাড়াই আইসিইউ, সিসিইউ, এনআইসিইউ ও ইইচডিইউ এবং কিছু রোগনির্ণয় যন্ত্র চালিয়ে আসছে স্কয়ার হাসপাতাল। অভিযানে আরো দেখা যায়, হাসপাতালে ৩০০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও সেখানে শয্যা আছে ৩৬৫টি। হাসপাতাল, এর ব্লাড ব্যাংক ও পরীক্ষাগারের অনুমোদন গত দুই বছর হালনাগাদ করেনি কর্তৃপক্ষ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছিল স্কয়ার হাসপাতালের ক্যাফে। এ ছাড়া বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই ক্যাফেতে কেক তৈরি হতো।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন হাসপাতালের ছয় কর্মচারীকে দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া ওই কর্মচারীদের সাত মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন র্যাব ২-এর পরিচালক মো. দিদারুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. শাহজাহান, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেন, বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিদর্শক মো. খালেক মজুমদার।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনার সময় দেখতে পায়, স্কয়ার হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ ১ বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। একই ভাবে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এমনকি হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সার্জিক্যাল ইকুইপম্যান্ট, আইসিইউ, এনআইসিইউসহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো অনুমোদন নেই।


