দুই মন্ত্রীর আচরণবিধি ‘লঙ্ঘনের’ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে মতো কিছু করেননি তিনি।
শুক্রবার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং বিধিবিধানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।”
শেরপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তথ্যমন্ত্রী ইনু ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় পৌরসভা নির্বাচনে এক প্রার্থীর পক্ষে পথসভায় অংশ নেন বলে একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানও ওই সভায় অংশ নিয়েছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
গত ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই মন্ত্রীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বৃহস্পতিবার ফুলপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
“পত্রিকায় প্রকাশিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসিকে লিখিতভাবে জানানোর জন্যে অনুরোধ করা হলো,” বলা হয়েছে ইসির চিঠিতে।
এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু গত ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় ভাষাসৈনিক শামছুল হক চত্বরে বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় যে বক্তব্য রাখেন, সেখানে পৌর নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য ছিল না।
“মহান বিজয় দিবসের ওপর তথ্যমন্ত্রীর সাত মিনিটের এ সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার সময় অন্য কোনো মন্ত্রীও সেখানে ছিলেন না, এমনকি আসন্ন পৌর নির্বাচনের কোনো প্রার্থীও মঞ্চে ছিলেন না। ফলে তথ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নাকচ করে ওই ঘটনা তদন্তের কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
“আমার দ্বারা যেহেতু কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়নি, তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন,” বিবৃতিতে বলেন তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অধিদপ্তর।
কমিশনের মনিটরিং কমিটি তা যাচাই করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নজরে আনে বলে কর্মকর্তারা জানান।
নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, এমপি, মেয়রসহ সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে যেতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দলীয় প্রধানদেরও পথসভা ছাড়া কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে পৌর নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২০টি দলকেও এরইমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪ পৌরসভায় ভোট সামনে রেখে বুধবার থেকে প্রতীক ছাড়া পথসভা ও ঘরোয়াসভাসহ প্রচার শুরু হয়েছে। তবে প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ১৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে।


