বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

এই প্রশ্নের জবাব এখন দিতে পারবো না: জয়

Joy_আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন কি না- সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত নন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাইদুজ্জামান ইভান নামের একজন জয়কে প্রশ্ন করেন, “আপনি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। আগামীতে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা আছে কি?”

জবাবে মৃদু হেসে জয় বলেন, “এই প্রশ্নের জবাব এখন দিতে পারব না।”

সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে ‘জাতীয় ঐক্যের ডাক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জয়। পরে কয়েকজনের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও জঙ্গিবাদী ছাড়া অন্য সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক উপদেষ্টা নিয়োগ পান তিনি।

ফেইসবুক বন্ধ থাকায় চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবেতদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি- মন্তব্য করে একজন জয়ের কাছে জানতে চান, অন্য পাবলিক পরীক্ষার সময়েও ফেইসবুক বন্ধ রাখা হবে কি না।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জয় বলেন, “ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রশ্ন ছড়াতে পারেনি। তবে অন্যভাবেও প্রশ্ন ছড়ানোর সুযোগ আছে। ফেইসবুক বন্ধ করলেই যে প্রশ্ন ফাঁস হবে না তার নিশ্চয়তা নেই।”

আরেকজনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বাকী বিল্লাহ নামের এক তরুণ আলেম জয়ের কাছে জানতে চান, যেসব মাদ্রাসায় বিজয় দিবসেও জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেসব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।

জবাবে জয় বলেন, “অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান ইমরান খান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

সংবিধানে স্লোগান থাকে না মন্তব্য করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বেশি বেশি বলার পরামর্শ দেন জয়।

‘সুচিন্তা বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ এ আরাফাত বিটিভির অধিবেশন ‘জয় বাংলা’ বলে শেষ করার প্রস্তাব করেন।

জয় বলেন, “এটা অবশ্যই হওয়া উচিত। তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলতে হবে। বিটিভি জয় বাংলা বলে শেষ হবে ন কেন?”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যারা রাজনীতিতে আছেন তাদের সঙ্গে ‘সুশীলদের’ও দেশের স্বার্থে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সকল মানুষ, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হব।

“তবে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কোনো দিন আমাদের ঐক্য হবে না, তাদের আমরা চাই না।”

সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী এবং দেশের মানুষদের হত্যাকারীদের জাতীয় ঐক্যে চান না জানিয়ে জয় বলেন, “যারা যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় পতাকা দিয়ে মন্ত্রী বানায়, যারা জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়, প্রশ্রয় দেয় তাদেরকে আমি চাই না।

“তার বাইরে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই-বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, বাংলাদেশ যাতে এগিয়ে যেতে থাকে, উন্নত হতে থাকে।”

জয় বলেন, “আমরা সবাই রাজাকার, জঙ্গিবাদ এবং তাদের সমর্থক বাদে সকল বাঙালি এই ১৬ ডিসেম্বরের আগে ভবিষ্যতের জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।”

জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমরা চাই দেশ এগিয়ে যেতে থাকুক, মানুষের জীবনের উন্নয়ন হোক, সবাই ভাল থাকুক।

“আমরা বাঙালি, বাংলাদেশি, আমাদের সুবজ-লাল পতাকা, আমাদের স্লোগান জয় বাংলা। এটা বাংলাদেশের স্লোগান, আমাদের স্বাধীনতার স্লোগান।”

কথিত সুশীল সমাজের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীপুত্র বলেন, “দেশে পরামর্শ দেওয়ার লোকের অভাব নেই। তবে ভাল কাজ করার সময় লোক পাওয়া যায় না।”

ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ এবং এই অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন ‘সুচিন্তা বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ এ আরাফাত বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন