নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে দ্রুত কমিশনকে জানাতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব রকিব উদ্দীন ম-ল ইসির নির্দেশনাটি বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলপুর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন। এতে ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভায় নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি আচরণবিধি লংঘনের ঘটনাটি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমলে নিয়ে অ্যাকশনে যাচ্ছে ইসি। এবারই প্রথম পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে একটি কমিটি গঠন করছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। ওই কমিটিই ইনু ও মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবরের প্রতিবেদন দাখিল করে নির্বাচন কমিশনে। এরপর কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। ফুলপুর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রকিব উদ্দীন ম-ল ইসির নির্দেশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিংও জুড়ে দিয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শেরপুর থেকে ঢাকা ফেরার পথে বিধি লংঘন করে ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরশহরে নির্বাচনী এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা’ ৭১-এ পাকিস্তানকে, ‘৭৫-এর পরে সামরিক জান্তা ও বিএনপি-জামায়াত জোটকে উৎখাত করে বিজয়ের তিন ধাপ অতিক্রম করেছি। যারা মিটমাটের কথা বলছেন তার ওইসব অপশক্তির উত্থান চায়।’
কিছুক্ষণ পর শেরপুর থেকে এসে মঞ্চে ওঠেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘পরাজয়ের ভয়ে বিএনপি নির্বাচন ছেড়ে দেয়ার মওকা খুঁজছে। তাদের এবার সে সুযোগ দেয়া হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মন্ত্রী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শশধর সেনকে বিজয়ী করতে আহ্বান জানান তিনি।
নির্দেশনার অনুলিপি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককেও দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবকিছুই আইন ও বিধি মোতাবেক হবে। বিধির বাইরে কিছুই হবে না। বিধি ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্লাহ দুই মন্ত্রীকে নোটিশের ফারুকী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক বলেন, ‘আমি এ সময় ডিউটিতে ছিলাম। ৪ ডিসেম্বর রাত ৯টায় ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান জামালপুর থেকে এবং রাত পৌনে ১০টায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শেরপুর থেকে ফেরার পথে শশধর সেন আয়োজিত ফুলপুর গোলচত্বর মঞ্চে উপস্থিত হন।’
ওসি আরো বলেন, ‘সেখানে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান প্রকাশ্যে ভোটারদের শশধর সেনকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তথ্যমন্ত্রীও শশধর সেনকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর উপজেলার সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ।’
স্থানীয় সরকার পৌরসভা নির্বাচন এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে হচ্ছে। এ নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করবেন। যদিও কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবেই লড়বেন।
এ নির্বাচনের আচরণবিধিতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রচারে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ রয়েছে। যদিও বিভিন্ন স্থানে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে তিন সংসদ সদস্যকে নোটিশ দিয়েছিল ইসি। জবাবে তিন সংসদ সদস্যই দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
এসবের মধ্যেই দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠল।


