ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভবনে রোববার ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে বলে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক শরিফ উল্লাহ ভূঁইয়া জানান।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী পরিষদের ১৫টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩৯ জন প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের নীল দল সমিতির বর্তমান সভাপতি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের ওপরই আস্থা রেখেছে।
তবে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানও সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন, যিনি নীল দলের সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে সাদা দল থেকে সভাপতি পদে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ-সম্পাদক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাব চত্বর এলাকা সকাল থেকেই শিক্ষকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। ভিসি চত্বর থেকে নীলক্ষেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান তোরণ পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার দুইধারে ভোট দিতে আসা শিক্ষকদের গাড়ির ভিড় দেখা যায়।
দীর্ঘদিন নীল দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট করে এলেও বামপন্থি শিক্ষকদের গোলাপী দল এবার আলাদা প্যানেলে লড়েছে।
তারপরও নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন নীল দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, “গোলাপী দলের আলাদা প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নীল দলের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তাতে নির্বাচনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।”
অন্যদিকে সাদা দলের সভাপতি প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, এবার নির্বাচনী প্রচারে সময় কম দেওয়া হয়েছে।
বিগত নির্বাচনে কোনো পদে বিজয়ী হতে না পারা সাদা প্যানেলের এই প্রার্থী বলেন, “নীল-গোপালী আগে একই প্যানেলে ছিল। তবে এখন আলদা হয়ে কয়েকটি পদে নির্বাচন করছে। নির্বাচনে সবারই প্রত্যাশা থাকে।”
সাধারণ সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, “নীল দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার দাঁড়ানোর প্রয়োজন হতো না, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত থাকত, যদি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে বৈষম্য করা না হতো। রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় যখন শিক্ষকদের চরম অপমান করা হয়, তখন সমিতির কাছে বলিষ্ঠ কোনো প্রতিবাদ শুনতে পাইনি।
আর গোলাপী প্যানেলের প্রার্থী এমএম আকাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাংগঠনিক শক্তি ও দল হিসাবে সরকারসমর্থিত নীল দল সব চেয়ে সংগঠিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরট সংখ্যক শিক্ষক দল নিরপেক্ষ। মূলত তাদের ওপরেই নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করছে।”
নীল দলের অন্য প্রার্থীরা
সহ-সভাপতি পদে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. ইমদাদুল হক, যুগ্ম-সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নীলিমা আকতার, কোষাধ্যক্ষ পদে শিক্ষক সমিতির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন।
এছাড়া সদস্য পদের প্রার্থীরা হলেন- কলা অনুষদের ডিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মাসুদুর রহমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আফতার আলী শেখ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামাল।
সাদা দলের অন্য প্রার্থীরা
সহ-সভাপতি পদে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান, কোষাধ্যক্ষ পদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক পদে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রার্থী হয়েছেন।
সদস্য পদের প্রার্থীরা হলেন- ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম জাফরুল ইসলাম, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়া, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল করিম, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল হাকিম, পরিসংখ্যান, প্রাণ পরিসংখ্যান ও তথ্য পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম।
গোলাপী দলের প্যানেল
গোলাপী দলের প্রার্থীরা হলেন, সহ-সভাপতি পদে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নেহাল করিম, কোষাধ্যক্ষ পদে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, যুগ্ম-সম্পাদক পদে পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সুমন কান্তি বড়ুয়া।
সদস্য পদের প্রার্থীরা হলেন- ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফকরুল আলম, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম আকতারুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাদাৎ হোসেন এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম সালাহউদ্দিন।


