ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে গত কয়েক বছরে আস্থা ও উপলব্ধিতে নতুন মাত্রা এসেছে মন্তব্য করে দেশটির বিদায়ী হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, এতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান ‘আরও সহজ’ হয়েছে।
শনিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন দেখিয়েছে দুই দেশ ‘সবচেয়ে জটিল বিষয়ের’ সমাধান করতে পারে।
আগামী মাসে মস্কোয় ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে ঢাকা ছাড়ার আগে এদিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষবারের মতো মতবিনিময় করেন পঙ্কজ।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ঢাকায় তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য পঙ্কজ শরণকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। ঢাকায় তার প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ অনেক উচ্চ-পর্যায়ের সফর তত্ত্বাবধান করেছেন তিনি। বিভিন্ন চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
“ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আস্থা ও উপলব্ধিতে আমরা একটি নতুন মাত্রা এনেছি,” এক প্রশ্নের জবাবে বলেন পঙ্কজ শরণ।
বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন তার জন্য ‘সত্যিকার অর্থে দারুণ পাওয়া’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এটা ছিল আমাদের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। আমি সৌভাগ্যবান যে এমন এক সময়ে থাকতে পেরেছি যখন অনেক অনেক দিক দিয়ে সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে এবং সেসব বিষয়ে আমরা অগ্রগতি আনতে পেরেছি যেগুলো দশকের পর দশক আটকে ছিল।
“আমাদের মধ্যকার মতভিন্নতা আমরা কমিয়ে আনতে পেরেছি এবং এই সময়ে আমরা সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র বের করতে পেরেছি।”
“ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বাংলাদেশে দায়িত্বে পালনের সময় খুবই সন্তোষজনক।”
এই সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন পঙ্কজ শরণ।
তিনি বলেন, সীমান্তের দুই পারের মানুষ এই সম্পর্কের সুফলভোগী। ভৌগলিক অবস্থান, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত নানা যোগসূত্রতার কারণে দুই দেশের সরকারই এ থেকে লাভবান হচ্ছে।
সম্পর্কে ভবিষ্যৎ নিয়ে পঙ্কজ বলেন, “দুই দেশের তারুণ্য নির্ভর প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে আমরা এই সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমাদের এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আন্তঃযোগাযোগ এবং জ্বালানির মতো বিষয়গুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাও দুই দেশের মানুষের জীবনধারায় প্রভাব ফেলবে।”
পানি বণ্টনের বিষয়টিকে একটি ‘বিলম্বিত ইস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে পঙ্কজ শরণ বলেন, দুই দেশের মানুষের জন্যই এই ইস্যুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
“সংলাপই পারে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। তবে দুই দেশকেই একে অপরকে সম্মানের চোখে দেখতে হবে।”
একইসঙ্গে দুই দেশকেই পানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
পঙ্কজ শরণের মেয়াদে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে নানা বিষয়ে চুক্তি হয়েছে, সম্পর্ক হয়েছে দৃঢ়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার নতুন মাত্রা দেখেছে দুই দেশ, ‘উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে’ সীমান্ত হত্যা।
বিভিন্ন স্থানে দুই দেশের জন্য সীমান্ত বাজার স্থাপন ছাড়াও দুটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন যুক্ত হয়েছে প্রথমবারের মতো।
পাশাপাশি ভারতের ভিসা প্রপ্তি সহজ হয়েছে, চালু করা হয়েছে পাঁচ বছরের জন্য মাল্টিপল ভিসা। বাংলাদেশে একটি নতুন ভিসা সেন্টারও খুলেছে ভারত।
তার মেয়াদে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সফলতার কথা জানতে চাইলে পঙ্কজ শরণ বলেন, “আমার দৃষ্টিতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।”
অবশ্য কিছু কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেগ পাওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
বিদায়ী হাই কমিশনার বলেন, “আগের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা এখন অনেক সুদৃঢ়। সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে সেই স্বীকৃতিও দিচ্ছে। বর্তমানে শুধু ভারত নয়, অন্যান্য ক্ষমতাধর দেশগুলোও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চায়।”


