নিজেদের ছবি দিয়ে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার তৈরি না করার জন্য দল ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠন নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারও ছবি এগুলোতে ব্যবহার করা যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চিঠির মাধ্যমে দল ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের সবপর্যায়ে এই নির্দেশ পাঠানো শুরু করেছেন।
গত সোমবার থেকে দলের জেলা ও উপজেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়কদের কাছে সৈয়দ আশরাফের ওই চিঠি ডাকযোগে পাঠানো শুরু হয়। আর মঙ্গলবার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় উপস্থিত দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং আহ্বায়ক-যুগ্ম আহ্বায়কদের কাছেও চিঠিটি তুলে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, দলীয় এই নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়টি আগামী এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। এরপরই নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা চূড়ান্ত করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে আত্মপ্রচারের প্রবণতা বেশ বেড়েছে। এসব নেতাকর্মী নিজেদের নিজেদের ছবিসম্বলিত এসব বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার তৈরি এবং বিভিন্ন স্থানে টানাচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে স্থাপিত তোরণগুলোতেও বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির তুলনায় নেতাকর্মীদের ছবিই বড় করে দেওয়া হচ্ছে।
দল ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গড়ে ওঠা অনেক ভূঁইফোড় সংগঠনের ‘নেতা’ পরিচয় দিয়েও অনেকেও একই কাজ করছেন। এতে সরকার ও দলের ভাবমহৃর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবরাখবরও প্রকাশ হচ্ছে।
এ অবস্থায় দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তেই সৈয়দ আশরাফ দল ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতীম সংগঠন নেতাদের কাছে ওই চিঠি পাঠান বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে দলের এই নির্দেশের কথা কেবল দল ও সহযোগী সংগঠন নেতাদের চিঠির মাধ্যমেই নয়, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশবাসীকেও জানানো হবে বলেও কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।
দলীয় এই নির্দেশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড যেন কম ব্যবহার হয়, সেটাই তাদের লক্ষ্য। নিজেদের ছবি যখন ব্যবহার করতে পারবেন না, তখনই নেতাকর্মীরা এ ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড বানাতে নিরুৎসাহিত হবেন।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দলীয় ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে বিভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। যাতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ছবি থাকছে। অথচ সেখানে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি খুব ছোট আকারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা দেশের সাধারণ মানুষের নিকট দৃষ্টিকটু।’
এতে আরও বলা হয়, ‘সুতরাং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা ব্যতীত অন্য কারো ছবি থাকলে সেসব বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার জন্য সারা বাংলাদেশের সব জায়গায় আপনার নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদানের আহ্বান জানানো হলো।’


