বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা ছেড়েছেন হাইকমিশনার পঙ্কজ, ভারপ্রাপ্ত ড. আদর্শ সোয়াইকা

India-Newsবাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ সরন তার দায়িত্ব পালন শেষে ঢাকা ছেড়েছেন। নতুন হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা দায়িত্ব নেয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. আদর্শ সোয়াইকা।

এদিকে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন একজন বাঙালি। তিনি সে দেশের অভিজ্ঞ কূটনীতিক হর্ষ শ্রিংলা। বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডে ভারতের রাষ্ট্রদূত। আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝিতে হর্ষ ঢাকায় দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে।

শনিবার ভারতের হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পঙ্কজ সরন শনিবার বাংলাদেশ থেকে চলে গেছেন। নবনিযুক্ত ডেপুটি হাই কমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা ঢাকা এসেছেন। তিনি বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানুয়ারির মাঝামাঝি ঢাকা আসার পর তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন সোয়াইকা।
ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার আদর্শ সোয়াইকা এর আগে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের জাতিসংঘ বিভাগের পরিচালক ছিলেন। এর আগে তিনি বেইজিং, সোফিয়া ও মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন। রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রিধারী সোয়াইকা হিন্দি, বাংলা ও রাশিয়ান ভাষায় কথা বলেন।

ঢাকা থেকে যাওয়া পঙ্কজ শরন ‘খুব শিগগিরই’ রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হয়ে যোগ দিচ্ছেন। শ্রিংলা ভারতের ফরেন সার্ভিসে শরনের দুই বছরের কনিষ্ঠ। শরন ফরেন সার্ভিসে ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা। পেশাদার কূটনীতিক শরনের বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০০৮ সালের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষের পর নির্বাচন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনও করেছিল বিএনপি। বিএনপির নেতাদের অনেকে সরাসরিই বলে থাকেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ ‘একতরফা’ নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। শরনের মেয়াদে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘকালের সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়, যার ফলে দুই দেশের ছিটমহলগুলোর বিনিময় হয়।

নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ পাওয়া হর্ষ শ্রিংলা ব্যাংককে রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে সাউথ ব্লকে বাংলাদেশ বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন হর্ষ। দার্জিলিংয়ে জন্ম হওয়া প্রবীণ কূটনীতিবিদ হর্ষ শ্রিংলা ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে নয়াদিল্লির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সাউথ ব্লক ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করার সময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন সেই চুক্তি নিয়ে বিরোধিতা করছিল সে সময়ে তিনিই তাদের বোঝানোর প্রধান উদ্যোগ নেন।
হর্ষ শ্রিংলা যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কূটনীতি ও সংঘাত নিরসনের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক স্তরে সমাদৃত।

হর্ষ গত ৩০ বছরের কূটনৈতিক জীবনে সাউথ ব্লক ছাড়াও প্যারিস, হো চি মিন সিটি, নিউইয়র্কে ভারতীয় মিশনে কর্মরত ছিলেন। ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ডারবানে কনস্যাল জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন। জন্ম দার্জিলিংয়ে হলেও হর্ষ বর্ধনের পড়াশোনা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে।

আরও পড়ুন