সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি অধিবেশনে ১৫ কাউন্সিল সদস্য দেশ ওই প্রস্তাবে একমত হয়।
অনুমোদিত ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ প্রশ্নে সেদেশের নাগরিকরাই সিদ্ধান্ত নেবে। তাই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে একটি মুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
বিবিসি জানায়, অবিলম্বে সমস্ত পক্ষের প্রতি সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয় ওই প্রস্তাবে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে সিরিয়ার সরকার ও দেশটির বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আসন্ন জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে আলোচনা ও যুদ্ধ বিরতির উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
জাতিসংঘ বলছে, সিরিয়ায় চলা এই যুদ্ধ পাঁচ বছরে পড়তে যাচ্ছে, যাতে আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিহত ও ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভবিষ্যত নিয়ে অবশ্য এখনও মতবিরোধ রয়েই গেছে।
আসাদ দেশ চালানোর ক্ষমতা হারিয়েছেন মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তার সরে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে।
তবে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে আসাদকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে রাশিয়া এবং চীন একমত হতে পারেনি। শান্তি পরিষদের ওই প্রস্তাবেও আসাদের ভবিষ্যতের বিষয়ে কোনোকিছু উল্লেখ করা হয়নি।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওই সেশনে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
তিনি বলেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সন্ত্রাসীরা আর সুযোগ নিতে পারবে না এবং রাজনৈতিকভাবেই সিরিয়ায় পরিবর্তন হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রস্তাবকে একটি মাইলফলক অভিহিত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটির নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য ও সময় কাঠামো রয়েছে।
এদিকে, সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ সপ্তাহের মধ্যেই তার সরকার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নেবে। কিন্তু বিরোধী দলের পক্ষে কে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসবে, সেটি তারা আগে জানতে চায়।


