বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার বেশির ভাগই ছোট কারখানা। এতে কাজ করে প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক। এসব শ্রমিক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্র্যান সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাত হাজারের বেশি কারখানা রয়েছে। এগুলোর একটা বড় অংশের কোনো ধরনের নিবন্ধন নেই। তারা তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য নয়। তবে, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক বড় বড় নামিদামি প্রতিষ্ঠান এসব ছোট ছোট কারখানা থেকে কাজ করিয়ে নেয়।
যদিও বিজিএমইএ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। অপরদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছোট কারখানাগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অদূরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে ওই ভবনে থাকা পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক মারা যান। এরপরই শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি জোরেসোরে আলোচনায় চলে আসে।
তারই ধারাবাহিকতায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুটি ফোরাম গঠন করে। এ দুটি ফোরাম বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেয়।
এ রকম একটি প্রেক্ষাপটেই নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা নিয়ে গবেষণা শুরু করে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কারখানার মাত্র চার ভাগের এক ভাগ সেই নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। ফলে বেশির ভাগ কারাখানার ৩০ লাখের মতো শ্রমিক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের ওপর কোনো নজরদারি নেই।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান বাংলাদেশে কিছু ছোট কারখানা আছে বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি দাবি করেন, বড় কোনো কারখানা তাদের দিয়ে কাজ করায় না। এসব ছোট কারখানা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য কাজ করে থাকে। এরা সরাসরি রপ্তানিকারক না হওয়ায় বিজিএমইএর সদস্য হতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক ক্রেতাদের ফোরাম অ্যালায়েন্সের মেজবাহ রবিন বলেন, ‘সরকারি হিসাব ও বিজিএমইএর তালিকা অনুযায়ী সাড়ে তিন হাজার কারখানা এখন চালু আছে। অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তার সরকারে ন্যাশনাল কর্মসূচির অধীনে- এই তিন ভাগে তালিকাভুক্ত একশ ভাগ কারাখানাকেই নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।’
সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার বলেছেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় হাজার খানেক ছোট কারখানা রয়েছে। এসব কারখানাকে দুই বছরের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে।


