বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

আত্মঘাতী সংঘাত যেন আর না হয়: বিজিবিকে প্রধানমন্ত্রী

PM-BGB-20-12-15বিদ্রোহের মতো আত্মঘাতী সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে বিজিবি দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ দেন।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই পিলখানায় বিডিআর বাহিনীতে বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। ওই বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭২ জন প্রাণ হারান।

রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের পর দায়ীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি খোলনলচে বদলে দেওয়া হয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীকে।

বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) বাহিনীর নাম বদলে হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পোশাকও পরিবর্তিত হয়।

বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ অধ্যায় আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, “সে সময় সরকার গঠনের পরপরই বিদ্রোহের একটি রক্তাক্ত অধ্যায় আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছিল।”

সবার সহযোগিতায় এই বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সতর্ক থাকবেন, ভবিষ্যতে কখনও এমন আত্মঘাতী সংঘাত যেন আর না হয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রিয় বিজিবি সদস্যবৃন্দ, সীমান্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আপনারা পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সফলতা অর্জন করেছেন। সীমান্তে আপনাদের কঠোর অবস্থানের কারণে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মাদকপাচার, সীমান্ত অপরাধ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।’

বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ-হত্যাকাণ্ড এ বাহিনীর ইতিহাসে একটা কালো অধ্যায়। সে সময় সরকার গঠনের পরপরই বিডিআর বিদ্রোহ হত্যাকাণ্ডের মতো ন্যক্কারজনক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আমাকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল। আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সেদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা সক্ষম হয়েছিলাম এবং পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে এনেছিলাম। সেদিনের ঘটনায় যাঁরা শাহাদাতবরণ করেছেন, তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বিজিবির ঐতিহ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ২২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় সমৃদ্ধির ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে আজকের বিজিবি ও তৎকালীন ইপিআরের (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস) গৌরবময় ভূমিকা প্রশংসনীয়।’

মুক্তিযুদ্ধে বিজিবির অবদান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাহিনীর প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বাঙালি সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ বাহিনীর দুজন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফসহ আটজন বীর উত্তম, ৩২ জন বীর বিক্রম, ৭৭ জন বীর প্রতীক মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন করে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা পেয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে বিজিবি সদস্যরা বিশেষ কুচকাওয়াজে অংশ নেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন