ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চেয়েছে জাতিসংঘ। হত্যা মামলার পর গ্রেপ্তার হওয়া আসামি, তাদের মোটিভ এবং মামলা তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। গেল সপ্তাহের শেষদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের চিঠিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অগ্রায়ন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জাতিসংঘের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মানবজমিনকে বলেন, দুয়েক দিনের মধ্যে দীপন হত্যা মামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলার অগ্রগতি-সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জবাব পাঠানো হবে।
এর আগে ৩১শে অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার মালিকানাধীন প্রকাশনী দুবর্ৃৃত্তদের হামলায় নিহত ব্লগার অভিজিত রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামের একটি বই প্রকাশ করে। নিহত ফয়সল আরেফিন দীপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও লেখক আবুল কাসেম ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে। দীপন হত্যার দুই দিন পর মামলা হয় শাহবাগ থানায়। দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পরে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখনও মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে। দীপন হত্যাকাণ্ডের দিনে ঢাকার লালমাটিয়া এলাকায় শুদ্ধস্বর নামের আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় ওই প্রকাশনীর কর্ণধার আহমেদুর রশিদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে টুটুল সম্প্রতি দেশ ত্যাগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ড নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনও তাদের রিপোর্ট জমা দেয়নি। কারণ তদন্তে তারা কোনো ক্লু পায়নি। প্রযুক্তিগত সহায়তায়ও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। এখন জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ওপর ভরসা করা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার ক্লু বের করতে চেষ্টা চলছে। তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত হয়নি।


