একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ করেছেন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা। আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বির্তক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”
বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার নানারকম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি করছে। যাদের অন্যায়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে; আমরা ক্ষমতায় আসলে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করে তাদের যথাযথ সন্মান ও সন্মাননা দেব।”
একাত্তরে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা নয়, ক্ষমতা চেয়েছিল দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “এই অবৈধ সরকার ক্ষমতা জবর দখল করে বসে আছে। তারা কখনো স্বাধীনতা চায়নি, তারা চেয়েছে ক্ষমতা। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি,” বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে বলেন বিএনপি নেত্রী।
বিএনপির প্রধান বলেছেন, তাদের দলে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা আছেন।
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা প্রকৃত রাজাকার, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সত্যিকারভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে, অত্যাচার করেছে, হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি হতে হবে, বিচার হতে হবে।
“সেই বিচার আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও স্বচ্ছ হতে হবে।”
আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা নাম দিয়ে যুদ্ধাপরাধী পালছে বলে অভিযোগ করেছেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, “যারা যুদ্ধ করেনি, যারা নানাভাবে অপরাধের সঙ্গে সাহায্য করছে, তারা এখন আওয়ামী লীগের প্রিয় ও কাছের লোক। এরকম বহু আছে।
“আওয়ামী লীগের নিজের ঘরে মুক্তিযোদ্ধা নাম দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পালছে, মন্ত্রী বানায়, ওমুক বানায়। অনেক রাজাকার আছে তাদের দলে। তাদের কিন্তু তারা চোখে দেখছে না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। সরিষাবাড়ীর মাওলানা নুরুল ইসলাম- সে কি মুক্তিযোদ্ধা? এই রাজকারকে পতাকা কে দিয়েছিল, হাসিনা দেয়নি? তাহলে কেন আমাদের কথা বলে?”
মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে বই লেখার পর সরকার নানা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া।
১৯৭৫ সালের আগে সিরাজ শিকদারকে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, “১৯৭১-৭৫ সাল পর্যন্ত দেশের কী অবস্থা করেছে, তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। সরকারের কারণে এ নিয়ে বই-পুস্তক পাওয়া যায় না। কাজেই মুক্তিযোদ্ধাদের ওই সময়ের বিষয়গুলো নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।”
রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা দলের ফজলুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জয়নুল আবেদীন, এসএম শফিউজ্জামান খোকন, হাজী আবুল হোসেন, সাদেক আহমদে খান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুব দলের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের শিরিন সুলতানা, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের শামা ওবায়েদ বক্তব্য রাখেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কামালউদ্দিন, নুরুল ইসলাম, আবদুস সামাদ মোল্লা, হাজী মিজানুর রহমান ভুঁইয়া, আবদুল মান্নান খান, চৌধুরী আবু তালেব, আবদুল মান্নান, গাউস মিয়া, এস এ জলিল, আবদুর রাজ্জাক রাজা, আমানউল্লাহ আমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।


