বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

এ বছর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ

bsfচলতি বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, চলতি বছরে এপর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৪৫ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। গতবছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩জন।

মঙ্গলবার ভোরেও বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হেমন্ত চন্দ্র নামের একজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তে ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান লিটন জানিয়েছেন, এ বছর মারা যাওয়া ৪৫জনের মধ্যে ৩১ জন গুলিতে আর ১৪জন শারীরিক নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার আলোচনা হয়েছে। ভারত প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু তা আর কার্যকর হয়নি।

এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়াটা এর একটি বড় কারণ বলে নূর খান মনে করেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ বলছে, এ বছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৪১জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬০জন। আর ২৭ জন বাংলাদেশীকে বিএসএফ অপহরণ করেছে।
অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান বলেন, ২০১০ সালের পর এ বছর বিএসএফের গুলিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি বিএসএফ কোনো প্রকার সম্মানই দেখাচ্ছে না। বরং তারা আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে। এমনকি অনেক সময় তারা বাংলাদেশের ভেতরে এসেও আক্রমণ করছে, যোগ করেন তিনি। অধিকারের হিসাবে, ২০১৩ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯জন। ২০১২ সালে ৩৮ জন আর ২০১১ সালে ৩১জন। এর আগে ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৪জন।

অধিকার বলছে, দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার ও হস্তান্তরের সমঝোতা এবং চুক্তি থাকলেও, বিএসএফ সেটি লংঘন করে সীমান্তে বাংলাদেশীদের দেখামাত্রই গুলি করছে। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, বিএসএফ তাদের ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি থেকে একবিন্দুও সরে আসেনি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।

আরও পড়ুন