মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। বিজয়ের মাসে ‘পাকিস্তানপ্রেমী বক্তব্যের’ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমাও চাইতে বলেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা সংগঠনটি।
মঙ্গলবার নির্মূল কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিরোধী পাকিস্তানপ্রেমী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি এবং এ ধরনের বক্তব্যের জন্য দেশ ও জাতির নিকট বিএনপির ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করছি।”
সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”
তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দেওয়া এ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, চলচ্চিত্রনির্মাতা শামীম আখতার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল সই করেছেন।
এতে বলা হয়, “যখন পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমালোচনা করে একাত্তরের গণহত্যা অস্বীকার করছে, ঠিক তখন বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সরকারি ও স্বীকৃত পরিসংখ্যান অস্বীকার করে আবারও প্রমাণ করেছেন একাত্তরে তিনি যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অনুগত ছিলেন, এখনও সেই অবস্থানে অটল রয়েছেন।”
নির্মূল কমিটি বলছে, যে কোনো দেশে গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ‘সে দেশের সরকারের দাবি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়’। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইহুদি গণহত্যায় নিহতের পরিসংখ্যানের উদাহরণও তুলে ধরেছে তারা।
“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি দাবি করেছে, হিটলারের নাৎসি বাহিনী ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করেছে। নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় তাদের আইনজীবীরা এবং পরবর্তীকালে নাৎসিদের প্রতি সহানুভূতিশীলরা এই পরিসংখ্যান অস্বীকার করলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে সরকারি পরিসংখ্যানই বিবৃত হয়েছে।
“ইতিহাস বিকৃতি প্রতিহতকরণের উদ্দেশ্যে গণহত্যার ভিকটিম ইউরোপের ১৪টি দেশ ‘হলোকস্ট অস্বীকৃতি আইন’ প্রণয়ন করেছে। যে আইনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার পরিসংখ্যান অস্বীকার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।” সেই আদলে বাংলাদেশেও আইন করার দাবি জানিয়েছে নির্মূল কমিটি।
“এই আইন প্রণীত না হলে ভবিষ্যতে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার লেশমাত্র থাকবে না এবং একাত্তরের শহীদদের অবমাননাও বন্ধ হবে না।” বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের হিসাবে, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা ৩০ লাখ নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে।
“সোভিয়েত বার্তা সংস্থা ‘তাস’, ‘ইউএনআই’ ও ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংস্থা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লক্ষ বলেছে। তবে গণহত্যাকারী পাকিস্তান এবং তাদের গণহত্যার সহযোগীরা সব সময় এই পরিসংখ্যান অস্বীকার করেছে।”


