কিছুদিন থেকেই কেমন যেন অচেনা লাগছে সর্বক্ষণের সঙ্গীকে। ডাইনিং থেকে বিছানা, সব জায়গাতেই কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে সম্পর্কটা । সবই হচ্ছে। অথচ কোথায় যেন সম্পর্কে আগের বাঁধুনিটা নেই, যেটা ছিল প্রেমের সময় বা বিয়ের শুরু শুরুতে । কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছে, আপনার সঙ্গীটি যেন আপনার সব ব্যাপারেই বড় বেশি উদাসীন । সবসময় একটা দূরত্ব টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন । ফরম্যালিটি করছেন । তবে কী আপনাদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছে থার্ড পার্সন ?
সঙ্গীর পরকীয়ার জন্য সবসময় যে তিনি দায়ি হবেন এমনটা না । হতেই পারে আপনার অজান্তে আপনিই হয়তো নিজের সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এসেছেন । আপনার কিছু স্বভাব যা দূরত্ব তৈরি করেছে সম্পর্কে । আর ওই ফাঁকেই আপনার জায়গায় চলে এসেছেন অন্য কেউ ।
শারীরিক মিলনে অনীহা
শারীরিক সম্পর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। এই যৌন জীবনের উপরই নির্ভর করে বিবাহিত জীবনের সুখ শান্তির অনেকটাই । আপনার সঙ্গী শারীরিক মিলনে কম আগ্রহী হলে তার প্রভাব পড়ে সম্পর্কে । এর ফলেও অনেকে জড়িয়ে যান পরকীয়ায় । এছাড়াও স্বামী/স্ত্রীর শারীরিক মিলনে অক্ষমতা অনেক সময় সম্পর্কে ডেকে আনে অবাঞ্ছিত মানুষকে ।
আবেগের অভাব
ভালোবাসার শুরুটাই হয় দুটো মনের মিলে । ২ জন ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষের মধ্যে মনের মিল হলেই পরের ধাপে তাঁদের মধ্যে শরীরী উষ্ণতার বিনিময় হয় । তাই বিয়ের আগে বা পরে এই মানসিক বাঁধনটা থাকা খুব জরুরি । বিয়ের পর ভালোবাসার কী দরকার ? লোকজন এত ঢলাঢলি দেখলেই বা কী ভাববে । ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে । এখন এসব আদিখ্যেতার কী দরকার ? এইসব ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন । জেনে রাখবেন, সম্পর্কটা আপনার । একে সুস্থ রাখার দায়িত্বও আপনারই।
সঙ্গীর কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখনোর চেষ্টা না করা
সবে প্রেমে পড়েছেন বা সদ্য বিয়ে হয়েছে। সেইসময় পছন্দের মানুষটার চোখে নিজেকে সবচেয়ে সুন্দরী/সুন্দর দেখানোর প্রচেষ্টা করেননি এমন কারও হদিশ মিলবে না। এ বিষয়ে অবশ্য মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে ছেলেদের চেয়ে । বরং স্বামী ক্যাটরিনা বা মাধুরীকে দেখে ভালো বললে আরও একবার পার্লার দৌঁড়েছেন অনেকে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সব চেষ্টায় কেমন যেন একটা ইতি টেনে ফেলেন তাঁরাই। এর ফল কিন্তু মারাত্মক হতে পারে । আপনার আকর্ষণ যখন ফিকে হতে শুরু করে, তখনই নতুন কোনও আকর্ষণের খোঁজে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন অনেকে। তাই সঙ্গীর চোখে নিজেকে চিরকালই সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখার চেষ্টা করুন । ত্বকের যত্ন নিন । কনসিভ করার পর অনেকের ওজন বেড়ে যায় । তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন । বিয়ের আগে বা বিয়ের পরপর যেমন কখনও স্নিগ্ধ সুচিত্রা বা মোহময়ী মাধুরী বেশে ধরা দিতেন সঙ্গীর কাছে, সেটাই ফিরিয়ে আনুন ।
নতুনত্ব না থাকা
সকালে ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, অফিস । অফিস থেকে ফিরে ফের খাওয়া, টিভি দেখা, ঘুম। এই থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়-এর একঘেয়েমির জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই নতুনত্বের স্বাদ খোঁজেন। আর এই নতুনত্ব খুঁজতেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন অনেকে। প্রেম চলাকালীনও এই একঘেয়েমি ব্যাপারস্যাপার চলে আসে। তবে, সেক্ষেত্রে পরিমাণটা অনেক কম। কিন্তু বিবাহিত জীবনে যেহেতু একসঙ্গে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই থাকতে হয়, তাই তিতিবিরক্তির পরিমাণটা বেড়ে যায় কয়েকশো গুণ। কিন্তু বিবাহিত জীবনটা যাতে একঘেয়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সময় পেলে আড্ডা মারুন, ঘুরতে যান, একে অপরকে অকারণে ছোটখাটো উপহার দিন। দেখবেন, সম্পর্কের মুচমুচে ব্যাপারটা থেকেই যাবে।
মাত্রাছাড়া সন্দেহ
যেকোনও সম্পর্কের মূল ভিত বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের ভিত যদি কোনও কারণে নড়বড়ে হয়ে যায়, সম্পর্ক টেকানো খুব মুশকিল হয়ে পড়ে । তাই অকারণে নিজের সঙ্গীকে অতিরিক্ত সন্দেহ করবেন না। অফিস থেকে ফিরতে দেরি হল, বা মাঝরাতে SMS এল। এই ধরনের সমস্যায় যদি আপনার রাতের ঘুম উবে যায়, তাহলেও না। সমস্যা হলে সঙ্গীর সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করুন । কারণ, আপনার অতিরিক্ত সন্দেহ আপনার প্রতি সঙ্গীর মন বিষিয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে শিক্ষা দিতে, খানিকটা জেদের বশেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারেন সঙ্গী ।
মাত্রাতিরিক্ত যৌনখিদে
অনেকসময় সঙ্গীর অতিরিক্ত যৌনখিদে ডেকে আনতে পারে থার্ড পার্সনকে। তাই এক্ষেত্রে সঙ্গীকে বুঝতে হবে। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলি মেটানোর চেষ্টা করুন । আপনার আবেদনে সে সাড়া দিচ্ছে না কেনও, তা নিয়েও খোলাখুলি কথা বলুন । তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন, আপনার চাহিদা কী মাত্রাতিরিক্ত ? সারাদিন কাজকর্মের পর আপনার সঙ্গীরও কিছুটা সময় দরকার । তাঁকে সেই সময়টা তাঁর মতো করে থাকতে দিন । যদি বুঝতে পারেন আপনার সঙ্গী যৌনজীবনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক । তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।



