অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তাদের (এডি) বিসিএস ক্যাডারদের সম মর্যাদা ও সর্বোচ্চ কর্মকর্তা নির্বাহী পলিচালকদের (ইডি) গ্রেড-১ না দিলে ব্যাংকে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াই করবে কর্মকর্তারা। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও পেস্কেলে মর্যাদা নামিয়ে নিম্ন করা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ২২ ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের শহীদ স্মৃতিস্মম্ভ ‘রক্তধারা‘র পাদদেশে আয়োজিত অফিসার্স কাউন্সিলের সাধারণ অধিবেশনে বক্তারা এ কথা বলেন।
কাউন্সিলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে সাধারণ অধিবেশনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহাব্যবস্থাপন আওলাদ হোসেন চৌধুরি, উপমহাব্যবস্থাপক দেলেয়ার হোসেন রাজিব, সাহরিয়ার সিদ্দিকী, আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক সরওয়ার হোসেন, উপপচিালক হামিদুর রহমান শখা ও সহকারি পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী।
সভায় আওলাদ হোসেন চৌধুরি বলেন, অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নবীন কর্মকর্তাদের নবম গ্রেডে রাখা হয়েছে। আর বিসিএস কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে অষ্টম গ্রেডে। একই মেধার কর্মকর্তা হওয়ার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অবনমন করা হয়েছে। কিন্তু সপ্তম পে স্কেলে সমান মর্যাদা ছিল। তিনি বলেন,এটা বিশেষ কিছু কর্মকর্তার ব্যপার নয়। এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যদার ব্যাপার। এই মর্যাদা রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি লড়াই করতে হবে।
শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি মর্যাদার প্রতিষ্ঠান; বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান। মর্যাদাও চাই বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত। এ জন্য আমরা নিয়মাতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করবো। যতক্ষন পর্যন্ত সমঅধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমও চলবে।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, মর্যাদা রক্ষা না হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকে পরিদর্শন কার্যক্রমে ব্যহত হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংককে নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম সংহত করতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সমান মর্যাদা দিতে হবে। আশরাফুর ইসলাম বলেন, গর্ভনর যেখানে এশিয়ার সেরা গর্ভনর নির্বাচিত হয়ে সম্মান বয়ে এনেছেন। সেখানে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলে কর্মকর্তাদের মর্যাদার অবনবন করা হয়েছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডের ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানান মো. সরওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল, কোয়াটার নির্মানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকলেও তা করা হয় সর্বনি¤œমানের। কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ক্ষেত্রে বোর্ডের ক্ষমতাপ্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, এখন আন্দোলন করার কথা ছিল বিসিএস কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি মর্যাদার। কিন্তু আন্দোলন করতে হচ্ছে সমান মর্যাদার।
নিলুয়ার ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, মর্যাদার লড়ায়ে আমরা প্রানদিপ্ত ও সুসজ্জিত আছি। যে কোন মূল্যে মর্যাদা রক্ষা করবো। আজ মর্যাদা রক্ষা করতে না পারলে আগামীতে বাংলাদেশ ব্যাংক হবে তৃতীয় শ্রেণীর মেধাধারীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তরাই অপমানিত হবে না। দেশের জন্যও দুর্ভাগ্য। সুতরাং এখনই সময় এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
সভা থেকে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় সংবাদ সম্মেলন। বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান। এরপর কালোব্যাচ ধারন ও কলম বিরতি কর্মসূচি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসগুলো যুগপদভাবে এ আন্দোলন করবে বলে জানান সভাপতি।


