সরকার ঘোষিত নতুন অষ্টম বেতন কাঠামোতে পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা খামাখা আন্দোলন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবিকেও ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি। মুহিত আরো বলেছেন,
পে স্কেলে আর পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বুধবার সচিবালয়ে অনলাইনে ব্যক্তিগত আয়কর প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
উল্লেখ্য, ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫’-তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ‘অবনমন করা হয়েছে’ বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল’ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে। বিষয়টি নিয়ে ওই দিন দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভও করেন তারা।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলন একদম খামাখা। তাদের দাবি-দাওয়া যা কিছু এর মধ্যে যৌক্তিক কিছু দেখছি না। অযৌক্তিক দাবিতে তারা এ সব করছেন। ননসেন্স। আটারলি ননসেন্স।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি অবশ্য প্রমিজ করেছিলাম যে, তাদের (বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের) স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দেব। কিন্তু যে বেতন স্কেল দেওয়া হয়েছে এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের দাবি একেবারেই অজ্ঞতাপ্রসূত। আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে ঠিক করেছি।’
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘জাতীয় অধ্যাপক বলে কিছু নেই। তাদের কোনো স্কেলও নেই। এটা একটা সম্মান। এ জন্য আগেও ৪০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হতো, এখনো এটা আগের মতোই আছে। এটা আলাদা করার কিছু নেই।’
‘সোজা কথা, যে যা-ই বলুক, বেতন স্কেল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই’ বলে এ সময় মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
‘এমপিওভুক্তি অত্যন্ত বাজে ব্যবস্থা’:
নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণের বিরোধিতা করে আসছেন অর্থমন্ত্রী গত প্রায় দুই বছর ধরে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্তি অত্যন্ত বাজে ব্যবস্থা। এটা স্কুলের স্বার্থ দেখে না, এমনকি ছাত্রদের স্বার্থও দেখে না। শুধু শিক্ষকদের স্বার্থ দেখে। এ জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছি। কমিটি যে সুপারিশ করবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও এই কমিটি খুব ধীরে কাজ করছে।’


