ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশ অংশের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু করা হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) নির্মিত এ লাইনটি বর্তমানে বিদ্যুতায়িত অবস্থায় রাখা আছে। আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযুক্ত হওয়ার পর ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে।
গত ২১ ডিসেম্বর কুমিল্লা সাবস্টেশন হতে বাংলাদেশ অংশে নবনির্মিত সঞ্চালন লাইন সফলভাবে কমিশনিং করা হয়। পিজিসিবির ‘ত্রিপুরা (ভারত)-কুমিল্লা (দক্ষিণ) উপকেন্দ্র (বাংলাদেশ) গ্রিড আন্তঃসংযোগ প্রকল্প’ পরিচালক প্রকৌশলী মো. মফিউল্লাহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বলে বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশ সরকার ও পিজিসিবির অর্থায়নে মোট ৪৭ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পিজিসিবির কুমিল্লা (উত্তর) সাবস্টেশন থেকে সীমান্ত পয়েন্ট পর্যন্ত ৪০০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন ২৮ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং কুমিল্লা (উত্তর) থেকে কুমিল্লা (দক্ষিণ) সাবস্টেশন পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার জুড়ে ১৩২ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
এ হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭২ কোটি টাকা। প্রকল্পে আরো রয়েছে কুমিল্লা (দক্ষিণ) সাবস্টেশনে দুটি বে সম্প্রসারণ কাজ। বে দুটি গত ১৫ ডিসেম্বর কমিশনিং করা হয়। সঞ্চালন অবকাঠামো বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য প্রস্তুত। সঞ্চালন লাইন বিদ্যুতায়িত অবস্থায় রাখায় সবাইকে এ লাইন ও টাওয়ারগুলো হতে অন্তত ১৫ মিটার নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতীয় অংশের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর হলে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে।
এর আগে ২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রথম আন্তঃদেশীয় গ্রিডলাইন চালু করা হয়, যার মাধ্যমে ভারতের বহরমপুর থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা হয়ে প্রতিদিন কমবেশি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।


