বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

বিএনপিকে ভবিষ্যতের জন্য ‘সতর্ক’ করা জামায়াতের মিশন

pic-17_131386পৌর নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় যাচ্ছে না ইসিতে নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী। এ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে বিএনপির কাছে নিজস্ব ‘ভোটব্যাংকের’ প্রমাণ দেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। ভোটের মাঠে ‘জামায়াত ফ্যাক্টর’ প্রমাণ করে জামায়াতকে ‘অবমূল্যায়ন’ করা বিএনপিকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করতে চাইছে তারা। জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুই নেতা এসব তথ্য জানান।

এবারের পৌর নির্বাচনে ৩৩ পৌরসভায় মেয়র পদে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। সব ক’টি জায়গাতেই বিএনপির বিপক্ষে রয়েছেন তারা। এগুলোর মধ্যে ২৬টি রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের পৌরসভা। এর অধিকাংশ জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিগত উপজেলা নির্বাচনে এর ১৬টিতে জয় পেয়েছিলেন জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি এড়িয়ে চলতে শুরু করে। যদিও তাদের রাজনৈতিক সখ্য দীর্ঘদিনের। ২০১৩ সালের সহিংসতার কারণে জামায়াতে ইসলামী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সমালোচিত। দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের ব্যাপারে বিএনপির ওপর দেশি-বিদেশি চাপও রয়েছে।

এদিকে বিএনপির এড়িয়ে চলার নীতিতে ক্ষুব্ধ জামায়াতে ইসলামী। বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি মাত্র আটটি উপজেলায় ছাড় দেয় দলটিকে। নির্বাচনে ১১৭ উপজেলায় প্রার্থী দিয়ে ৩৬টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পায় জামায়াত। উপজেলা নির্বাচনে ‘বঞ্চনার’ শিকার জামায়াত পৌর নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের জোট করতে শুরু থেকেই অনাগ্রহী ছিল। বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাগিদ দেওয়ার পরও দলটি জোটের নির্বাচনী আলোচনায় যোগ দেয়নি। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলের বৈঠকে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। খালেদা জিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়কারীদের সঙ্গে বৈঠকেও বসেনি তারা। স্থানীয়ভাবে সমঝোতা কিংবা প্রার্থীদের সরিয়ে নিতেও রাজি হননি।

রংপুর অঞ্চলের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য বলেন, ‘জামায়াতের মাত্র ৩৩ পৌরসভায় প্রার্থী আছে। এতে বিএনপির ক্ষতি হবে কি-না তা তাদের আগেই বোঝা উচিত ছিল। জোট টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব জামায়াতের একার নয়।’ তিনি জানান, বিএনপি আন্তর্জাতিক চাপের কথা বলে জামায়াতকে এড়িয়ে চলছে। তিনি বলেন, ‘ভোট পেয়ে দেখিয়ে দেব যে যত কথাই বলুক, নির্বাচনে আসলেই জামায়াত ফ্যাক্টর।’

পৌর নির্বাচনে জামায়াত তাদের ‘রিজার্ভ ভোটের’ ওপর নির্ভরশীল। জামায়াতের নির্বাচন সমন্বয় কমিটির ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, ‘এসব এলাকায় বিএনপি জামায়াতের ভোটের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জিততে হলে জোটের প্রয়োজন ছিল।’ খুলনা বিভাগের এক উপজেলা থেকে নির্বাচিত এ উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘জোট না হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের জন্যই ক্ষতি হয়েছে। তবে তারা বুঝতে পারবে নির্বাচনে জামায়াতকে পাশে প্রয়োজন। জামায়াত ছাড়া জয় অসম্ভব।’

বিএনপি-জামায়াতের ভোটের হিসাব সম্পর্কে এ নেতা বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ১০৯টি আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ে ছিল বিএনপি-জামায়াত। এর মধ্যে ২৯টিতে জামায়াত, ২৭টিতে বিএনপি এবং ৬৩টিতে জয়ী হয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর ৪৭টিতেই বিএনপি-জামায়াতের সম্মিলিত ভোট ছিল আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি। এবারের নির্বাচনেও এ রকম হতে পারে বলে জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামী পৌর নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নীরবে প্রচার চালাচ্ছে। দলের নেতাদেরও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা বারণ। গতকাল বৃহস্পতিবার ৪২ দিন পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন সম্পর্কে দলীয় বক্তব্য প্রকাশ করে জামায়াত। দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের এ বিবৃতিতে ‘জোট’ শব্দটিই নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি দলের জোরজুলুমে পৌর নির্বাচন ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচনে পরিণত হচ্ছ

আরও পড়ুন