৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচনে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০ ভাগ ভোট পেয়ে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।’
রোববার দুপুরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বিএনপিপন্থি সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উদ্বোধন করেন খালেদা জিয়া।
সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে রবিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
পৌরভোটে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীরা এগিয়ে থাকবে বলে ‘দলীয় জরিপ’কে পাত্তা না দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের ভাগ্যে ভরাডুবিই আছে।
আগের দিন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সারা দেশের ২৩৩টি পৌরসভার মধ্যে ২০১টিতে নৌকার প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন বলে তথ্য আছে।
হানিফের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে খালেদা জিয়া বলেন, মানুষ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌর ভোটে ধানের শীষের ভোট দিতে মুখিয়ে আছে।
“আমি জানি দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে ধানের শীষের ভোট দিতে। সত্যিকারভাবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ যদি হয়, তাহলে বিএনপির ধানের শীষ ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেই হবে ইনশাল্লাহ।”
৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচনে সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
পৌর ভোটে বিএনপি অংশ নেবে না- ভেবে সরকার কৌশলে ভুল করে ফেলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন করতে চায় এবং সকলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে।
নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ‘আজ্ঞাবহ’ প্রতিষ্ঠান আখ্যা হিসেবে ভোটের দিন সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপিপ্রধান।
“আপনাদের (সাংবাদিকরা) কাছে আহবান থাকবে, ভোট কেন্দ্রের ভেতরে কী হচ্ছে সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন। হাসিনার অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, রকিবের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ও রকিবের থেকে বড় দালাল কমিশনাররা আছে, তাদের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারেন না, সেটা প্রমাণ করে দিন।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চাকুরি যাবে বলে ‘আওয়ামী অপপ্রচারে’ কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বানও জানান খালেদা জিয়া।
এসময় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদকে অবিলম্বে মুক্তি এবং আমার দেশ খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিএফইউজের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, রুহুল আমিন গাজী, কবি আব্দুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধানসহ সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আব্দুল মান্নান, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএফইউজের সহকারি মহাসচিব মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ ও মোদাবেবর হোসেন।
পরে বিএফইউজের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে পুরানা পল্টনে ফটো জানার্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩০ মার্চ বিএফইউজের নির্বাচনে শওকত মাহমুদ সভাপতি ও এমএ আজিজ মহাসচিব নির্বাচিত হন।


