আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ‘পরাজয় নিশ্চিত’ জেনে মুক্তিযুুুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিএনপি নেতারা বিতর্কিত মন্তব্য করছেন বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করে, বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে দলটির ভোট কমেছে। তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদকদের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের প্রার্থীরা ২০১ পৌরসভায় এগিয়ে আছে বলেও দাবি করে ক্ষমতাসীন দলটি।
শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুুবউল আলম হানিফ এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন।
হানিফ বলেন, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকদের সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সারা দেশের ২০১ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির নেতাদের বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অবস্থান উত্তরোত্তর উন্নতি হচ্ছে। হানিফ আরও বলেন, বিএনপি বুঝে গেছে, তাদের পরাজয় নিশ্চিত। দলটির অতীত কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাদের প্রার্থীদের যতটুকু সম্ভাবনা ছিল তা আরও কমে গেছে। তাদের জয় লাভের আর কোনো সুযোগ নেই। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্যের পেছনে নির্বাচন থেকে সরে আসার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আসলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। নির্বাচনটা ভণ্ডুল করে মাঠে বিশৃংখলা করতে চায়। নির্বাচন থেকে সরে না আসার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান এ নেতা।
হানিফ আরও বলেন, খালেদা জিয়া ও অন্যদের বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এ বক্তব্যের পর আর তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকে না। পৌর ভোটে মানুষ তাদের বজর্ন করে সেটাই প্রমাণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপুু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় নেতা এমএস কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নেতারা বৈঠক করেন। সেখানে, মুক্তিযুুদ্ধে গণহত্যা ও শহীদদের নিয়ে ঐতিহাসিক যে ঐকমত্য রয়েছে কেউ যাতে এর বাইরে যেতে না পারে সে জন্য আইন তৈরি নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন সাংগঠনিক সম্পাদকরা। বৈঠক সূত্র জানায়, এক সপ্তাহের আগের হিসাব অনুসারে আওয়ামী লীগ ২০০ পৌরসভায় এগিয়ে ছিল। এর সঙ্গে চট্টগ্রামের রাউজান যুক্ত হয়েছে। তবে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্রোহীর কারণে দলের প্রার্থীর অবস্থা ভালো নয় বলে আলোচনায় উঠে আসে।
মৃণালের চোখে অস্ত্রোপচার : আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের দুই চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। শনিবার ভারতের চেন্নাইয়ে শংকরা নেত্রালয়ে এ অস্ত্রোপচার হয়। তিনি চোখে গ্লুকোমা রোগে ভুগছিলেন। আশু রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।


