ইংরেজি নতুন বছর বরণকে কেন্দ্র করে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঢাকার হোটেল ও ক্লাবগুলোয় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে দেশ দুটি এ সতর্ক বার্তা দেয়।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, নাগরিকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে গত ১০ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কবার্তা বলবৎ আছে। এবং বিশ্বজুড়ে ভ্রমণে এ বার্তা বলবৎ রয়েছে ২৩ নভেম্বর থেকে। যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন তাঁদের অবস্থাভেদে সচেতন থাকার এবং ভিড় ও সমাবেশস্থল এড়িয়ে চলার জন্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয় (এফসিও) থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের হামলার উচ্চ হুমকি রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা, ইতালির এক ধর্মযাজককে হত্যাচেষ্টা ও ঢাকায় চেকপোস্টে হামলায় পুলিশ হত্যাসহ বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর দুটি হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। রাজশাহীতে আপাতদৃষ্টিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। ডায়েশ (আইএস) এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।
এর আগেও নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে কয়েক দফা সতর্কতা জারি করে দেশ দুটি। এ ছাড়া নিরাপত্তার অজুহাতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ঢাকা সফর বাতিল করে দেশটির সরকার।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বিভিন্ন সময় তার দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্ক করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সেই ধরনের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আসছিল।
গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের আগেও এই ধরনের একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।
খ্রিস্টীয় বর্ষবরণ উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বেশ নির্দেশনা দিয়েছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দাদের থার্টি ফার্স্ট নাইটে (৩১ ডিসেম্বর) ৮টার মধ্যে বাসায় প্রবেশ করতে বলা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর সব উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ ও উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। তা ছাড়া সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে পরের দিন ভোর পর্যন্ত নগরীতে কোনো বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও বহন করা যাবে না এবং রাজধানীর সব পানশালা (বার) বন্ধ থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।


