বহুদিন ধরেই সংবাদপত্রের সচেতন পাঠক লক্ষ্য করছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ এবং জাপার সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এক সুরলয়ে কথা বলছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়, এরশাদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চেয়ে এক পা এগিয়ে কথা বলেন। স্বভাবতই তার এ বক্তব্য সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের জন্য বিব্রতকর হয়।
এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে গত রোববার। এ দিন দলীয় এক অনুষ্ঠানে এইচ এম এরশাদ বলেছিলেন, পৌর নির্বাচনের সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ ভোটের আশা নেই। সকাল ৯টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে যাবে। গত ২২ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে রওশন এরশাদকে পাশে রেখেই এরশাদ বলেছিলেন, ইসির মেরুদণ্ড নেই। মন্ত্রী-এমপিদের লাগাম টেনে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়ে তারা প্রমাণ করেছেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ। বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে শিথিল সম্পর্কের এই স্বামী-স্ত্রী পরস্পরবিরোধী কথাই বলছিলেন। পাঠক তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বেশ মজা করেই পড়েন।
এরশাদ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) মেরুদণ্ডহীন বললেও রওশনের অভিমত, কমিশন সঠিক পথেই আছে। এরশাদের বক্তব্যকে খণ্ডন করে তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই এসব বক্তব্য দিতে হচ্ছে দলের চেয়ারম্যানকে।
তবে জাপা নেতারা বরাবরই বলে আসছেন, বিরোধ নয়, কৌশল হিসেবেই এরশাদ ও রওশন প্রায় সব ইস্যুতে বিপরীতমুখী অবস্থান নেন। এরশাদ সরকারের সমালোচনা করে দলের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। রওশন সরকারের সমর্থন করে এরশাদকে ‘নিরাপদ’ রাখছেন। বারবার বক্তব্য বদলের জন্য সমালোচিত এরশাদকে রওশনই সবচেয়ে ভালো বোঝেন।
রওশনের বক্তব্যই জাপার দলীয় অবস্থান কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ শিবিরের নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২৩৪ পৌরসভার মাত্র ৭২টিতে মেয়র পদে প্রার্থী আছে জাপার। দলটির প্রার্থীদের এবারে নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে জাপা সরে দাঁড়াবে কিনা_ এ প্রশ্নে রওশন বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরব না। নির্বাচনকে প্রহসন বলা যাবে না। এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।’
বিভিন্ন স্থানে জাপার প্রার্থীদের বাধা দেওয়া হয়েছে_ সাংবাদিকরা এ তথ্য জানিয়ে রওশনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকেও ‘একহাত’ নেন। তিনি বলেন, ‘কোথাও হামলা হয়নি। একটা খড়কুটো পড়লেই আপনারা (সাংবাদিক) লিখে ফেলেন। আগে এত সাংবাদিক ছিল না, এত মিডিয়াও ছিল না, এত খবর মানুষ জানতেই পারত না।’ টিভি চ্যানেলের সংখ্যা কমানো উচিত বলে মন্তব্য করেন রওশন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০টি চ্যানেল আছে। ১০টি চ্যানেল হলেই চলত।’ চাকরি না পেয়ে বেকাররা সাংবাদিকতায় আসছে বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের কর্মসংস্থান নেই, তাই এই দশা। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকলে আপনারা এ পেশায় আসতেন না।’ সাংবাদিকরা এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করলে রওশন কথা ঘুরিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকতা সম্পর্কে কিছু বলি নাই। সাংবাদিকতা নোবল জব (মহান পেশা)। আমি বলতে চেয়েছিলাম, সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত।’
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা সম্পর্কে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে রওশন বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদ নিয়ে কথা বলাটা সামান্য ব্যাপার না।’ এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেত


