বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ আজ

Ecs-electionআজ দেশের ২৩৪টি পৌরসভা অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ১২ হাজার প্রার্থী এই নির্বাচনে লড়বে। এর মধ্যে মেয়র পদে লড়ছেন ৯৪৫ জন।

বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেছেন, ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।’

শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।’

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব), পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ এক লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। সঙ্গে আছেন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম।

কমিশনের শেষ মুহূর্তের নির্দেশনায় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত ফলাফল পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রার্থী:
২৩৪ পৌরসভা নির্বাচনে ২০টি দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মেয়র পদে ৯৪৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছে ১১ হাজারের বেশি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ভোটে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছে নৌকা-ধানের শীষ নিয়ে ২২২ প্রার্থী। মেয়র পদে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ২০ জন। নির্বাচনে ২০টি দল অংশ নিচ্ছে। এর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ২৮৮ জন। ২৩৪ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ২২৮ জন ও বিএনপির ২২৫ জন ও জাতীয় পার্টির ৭৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন।

মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ দুই প্রধান দল কয়েকটি পৌরসভায় মুখোমুখি না থাকলেও শরিকদের সঙ্গে লড়বে। নির্বাচনে অর্ধশতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া এলডিপি একজন, জেপি ছয়জন, সিপিবি চারজন, ন্যাপ একজন, ওয়ার্কার্স পার্টি আটজন, বিকল্প ধারা একজন, জাসদ ২১ জন, বাসদ একজন, তরিকত ফেডারেশন একজন, এনপিপি ১৭ জন, পিডিপি একজন, ইসলামী ঐক্যজোট একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন, খেলাফত মজলিসের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন।

এরইমধ্যে মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৪০ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনের দিনে নিরাপত্তা:
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ২২৯টি পৌরসভায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাকি ছয় উপকূলীয় পৌরসভায় কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পৌরসভা এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিজিবি-র‌্যাব-কোস্টগার্ড ও পুলিশ। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়া, ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র জানায়, ভোটের দিন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নির্বাচনে বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা নির্বাচনী মাঠে থাকছে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও ব্যাটালিয়ন আনসার সার্বক্ষণিক থাকছে। এ ছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকছেন। এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃত্বে ও অপরাধ দেখভালে মাঠে থাকছেন সর্বমোট এক হাজার ২০৪ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্র:
এ নির্বাচনে তিন হাজার ৫৫৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে। এসব ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২১ হাজার ৫৭১টি। এ হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে একজন করে তিন হাজার ৫৫৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, প্রতি বুথে একজন করে ২১ হাজার ৭১ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং প্রতি বুথে ২ জন করে ৪২ হাজার ১৪২ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করবেন মোট ৬৬ হাজার ৭৬৮ জন কর্মকর্তা। এ নির্বাচনে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬০ জন। এরই মধ্যে মেয়র পদ, সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের ব্যালট পেপার, সিল, ফরম প্যাকেট ও অন্যান্য নির্বাচন সামগ্রী নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছেছে।

এসব পৌরসভায় তিন হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ১৮৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের কারণে ২৩৪টি পৌরসভায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফলে নির্বাচনী এলাকায় সব কার্যালয় বন্ধ থাকবে।

বাধা নিষেধ:
গত সোমবার রাত ১২টার মধ্যেই বহিরাগতদের (যারা ভোটার বা বাসিন্দা নন) নির্বাচনী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের দুইদিন আগে থেকে পরবর্তী আরো চার দিন বৈধ লাইসেন্সধারীদের সবধরনের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের গ্রেপ্তার ও ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও পুলিশকে বলা হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু করে মোট ৪৮ ঘণ্টা যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ রাত ১২টা পর্যন্ত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় গত ২৭ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারী, নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, জরুরি পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

আরও পড়ুন