বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সোহরাওয়ার্দীতে ৫ জানুয়ারি সমাবেশের ঘোষণা দুই দলেরই

5th-januআগের দুই বছরের মতো ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত বছরের মতো এবারও ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ এবং ‘গণতন্ত্রের হত্যা দিবস’ উপলক্ষে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির।

শনিবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করবে এমনটা জানানোর পর আওয়ামী লীগও জানায় একই দিন তাদেরও কর্মসূচি রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোহবান গোলাপের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ঘণ্টাখানেক পরেই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কর্মসূচির কথা জানান আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। এরপর বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোহবান গোলাপের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ ওইদিন ঢাকার ১৮টি স্থানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।

সকালের দিকে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার চিন্তা বিএনপির। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ডিএমপিতে আবেদন করলেও সেখান থেকে এখনো সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুই বছর আগে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচন করা হয়েছে। প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই নির্বাচনের পরে একটা প্রহসনমূলক নাটকের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছিল। সেই সরকার এখনো আছে। এটাকে আমরা গণতন্ত্র হত্যা দিবস বলে চিহ্নিত করেছিলাম। গণতন্ত্রকে সেদিন হত্যা করা হয়েছিল। জনগণ ভোটের মাধ্যমে রায় দিতে পারেনি।’

ফখরুল আরো বলেন, ‘ওইদিনকে স্মরণ করতে এবং গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করি, তারা সমাবেশ করার জন্য অনুমতি দেবে। মাইক ব্যবহারেরও অনুমতি দেবে।’

একই দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাছান মাহমুদ। সকালে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘৫ জানুয়ারি অবশ্যই কর্মসূচি থাকবে আওয়ামী লীগের।’ তবে কী সেই কর্মসূচি তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আন্দোলনের নামে পেট্রোলবোমার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে আছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের পথে আছে।’

হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে রাক্ষসের প্রতিচ্ছবি খালেদা জিয়া। কারণ, তিনি ২০১৩, ’১৪, ’১৫ সালে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করেছেন। মানুষের চেহার ঝলসে দিয়েছেন, গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় উনি রাক্ষস।’

বিকেলে আব্দুস সোহবান গোলাপের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে। সব মিলিয়ে ১৮টি স্থানে সমাবেশ করা হবে। এর মধ্যে মিরপুর-১২ পূরবী সিনেমা হলের সামনে সমাবেশের দায়িত্বে থাকবেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, এস. এম কামাল হোসেন, এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ।

শ্যামপুর-জুরাইন রেলগেটে দায়িত্বে থাকবেন সাংগঠনিক সম্পদাক আহমদ হোসেন, মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, একেএম এনামুল হক শামীম, সানজিদা খানম।
ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মাঠের দায়িত্বে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা।

বাড্ডা-রামপুরা পেট্রোল পাম্প এলাকার দায়িত্বে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংসদ সদস্য একেএম রহমতউল্লাহ।

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোড এলকার দায়িত্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুল, সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
মিরপুর-১ (গোলচত্ত্বর) এর দায়িত্বে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আখতারুজ্জামান, সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম।

আরও পড়ুন