বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সাঈদীর আপিলের রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে

Saydeeমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে প্রকাশিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অনুলিপিটি পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহিদুল আলম ঝিনুক রায়ের কপি পাওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার শহিদুল আলম ঝিনুক সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের কপি যাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে। আইন মন্ত্রণালয়কেও রায় জানানো হবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর রায় প্রদানকারী পাঁচ বিচারপতির সইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬১৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তরা রিভিউ আবেদন করতে পারবেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, সাঈদীর ফাঁসি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ করবে।

সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনও বলেছেন, একই সময়ের মধ্যে খালাস চেয়েও রিভিউ আবেদন করবেন।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। অন্য চার বিচারপতি হলেন—বিচারপতি (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়। রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। সহিংসতায় প্রথম তিন দিনেই ৭০ জন নিহত হন।

এ মামলায় আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। তার ১৫ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন