জনসভার পরিবর্তিত স্থান নয়া পল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য দেবেন। সোমবার পুলিশের অনুমতি মেলার পর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা জানিয়েছেন।
দশম সংসদ নির্বাচনের বছর পূর্তির দিন মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জনসভার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছিল বিএনপি। এই দিনটি তারা ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
একই দিন ওই স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের’ সমাবেশ করতে চাইলে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরপর পুলিশ সোমবার নয়া পল্টনে বিএনপিকে এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করতে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দেয়।
গত সপ্তাহে পৌর নির্বাচনে ভরাডুবির পর এটাই বিএনপির প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি। নয়া পল্টনে খালেদা জিয়া ২০১২ সালে সর্বশেষ জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।
রাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে গুলশানের কার্যালয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে তিনি জনসভা সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে জনসভা করার প্রশাসনিক সকল অনুমতি নিশ্চিত হয়েছি। কাল বেলা ২টায় এই অফিসের সামনে সড়কে জনসভার কার্যক্রম শুরু হবে। শেষ হবে মাগরিবের নামাজের আগে।
“জনসভার পরিসীমা হচ্ছে- নয়া পল্টন সড়কের কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ মোড় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত।”
ঢাকা মহানগরে দলের বিভিন্ন শাখা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে এই জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
“জনসভায় আসতে আপনারা রাস্তায় কিংবা কোথাও কোনো প্রকার যানজট সৃষ্টি না করে বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে আসবেন। যে পরিসীমার কথা আমি বলেছি, সেখানে যানবাহন থেকে নেমে আপনারা জনসভাস্থলে আসবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রফিকুল ইসলাম মাহতাবদের দেখা গেলেও রিজভী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে রাতে গুলশানে খালেদার সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হারুন আল রশীদ, শামসুজ্জামান দুদু।
একই দিনে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে জনসভায় আসার পথে কোনো ধরনের ‘উসকানিমূলক প্রতিক্রিয়া’ না দেখাতে কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান রিজভী।
“শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে যাতে সবাই জনসভায় যোগ দেয়- সেভাবে আমরা নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের মহানগর ইউনিটের নেতারাও সেইভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।”
দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বছর পূর্তির দিন ২০১৫ সালে ৫ জানুয়ারিও বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি জনসভার ঘোষণায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।
পুলিশের বাধায় জনসভা করতে না পেরে খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ ডেকেছিলেন। তিন মাসের ওই কর্মসূচিতে নাশকতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।



