বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ও ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবসে’র সমাবেশ আজ

jugantor-bnp_al-2_814৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূতির দিন ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ সমাবেশ করবে বিএনপি। অপরদিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও ধানমন্ডি রাসেল স্কয়ারে দুটি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যেই দুটি দলের সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকাল ১১টার পর থেকে নিজ নিজ সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছে।

এদিকে জাতীয় পার্টি রাজধানীর দোলাইরপাড় এলাকায় ‘গণতন্ত্রের জন্য শান্তির মিছিল’ করছে। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিছিল, সমাবেশ ও আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে তা পালনে সব শাখাকে নির্দেশ দিয়েছে।

আজকের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জন চলাচলের পথ অবরুদ্ধ না করে ও বেলা ২টার পর শুরু এবং মাগরিবের আগে সমাবেশ শেষ করাসহ ৮টি শর্ত দিয়েছে বিএনপিকে।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব শর্তের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু শর্ত সাপেক্ষে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে কার্যালয়ের সম্মুখে জনসভার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, রাস্তা ব্যবহার না করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখে স্বল্প পরিসরে মঞ্চ নির্মাণ করা যাবে। স্বল্পসংখ্যক মাইক ব্যবহার করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই রাস্তায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না, মিছিল করে সমাবেশে আসা যাবে না, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলের ভেতরে ও বাইরে উন্নত রেজল্যুশনের সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বিকাল পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে।

আলোচিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন প্রথমে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে ডিএমপির কাছে সমাবেশের অনুমতি চায়। এরপর একইদিন একই স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগও। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের সমাবেশ করতে দেয়া না হলেও বিএনপি কোন সাংঘর্ষিক কর্মসূচি দেবে না। সরকারের প্রতি তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অক্ষুণœ রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

এরপর বিকালে প্রথমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পরে ডিএমপি দুটি দলকেই সমাবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু বিএনপিকে সমাবেশের জন্য নানা শর্ত জুড়ে দেয়া হলেও ক্ষমতাসীনদের বিষয়ে কোন নির্দেশনা বা শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিকে আজ দুটি দলের সমাবেশ ও কয়েকটি দলের মিছিলসহ নানা কর্মসূচির কারণে নগরবাসী চরম যানজটের আশংকা করছেন। অনেককেই দিনের প্রথমভাগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ব্যতিব্যস্ত দেখা গেছে। অপরদিকে রাজনৈতিক এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে।

আরও পড়ুন