চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের গঙ্গাদাসপুর গ্রামে খাস জমি নিয়ে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের বোমা হামলায় মোহাম্মদ আলী (৫০) ওসাহাবুদ্দীন (৬০) নামে দুইজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাহাবুদ্দীনের স্ত্রী মালেকা খাতুন (৪৫) ও ছেলে চঞ্চল (৩০) এবং পড়শী মমিনুল (৪০)। তাদের চিকিৎসার জন্য যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে জানান, জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের ১১৬ বিঘা জমিতে স্বাধীনতার পর থেকে ভূমিহীনরা বসবাস করে আসছিলেন। চার বছর আগে এ জমির মালিকানা দাবি করে দর্শনা আব্দুল হাই টুকু ও এলাকার কতিপয় জোতদার। এরপর এ জমি নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। একপর্যায়ে ভূমিহীনদের বাড়ি-ঘর ভেঙে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করে দেয় তারা।
২০১৫ সালের ২৪ জুলাই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আবারও বসতভিটায় ফিরে যান ভূমিহীনরা।
এদিকে সোমবার ওই জমি নিয়ে আবারও সংঘর্ষ বাধে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গ্রামের টিপুর চায়ের দোকানে বসেছিলেন মরহুম জাবেদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলীসহ (৫০) কয়েকজন। এ সময় কে বা কারা তাদের লক্ষ্য করে পরপর ৪-৫টি শক্তিশালী বোমা ছুড়ে মারে। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত কাদের শেখের ছেলে সাহাবুদ্দীনকে যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
বোমার আঘাতে সাহাবুদ্দীনের ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকেসহ তিনজনকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


