মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত অভিনয়শিল্পী পারভীন সুলতানা দিতি শিগগিরই দেশে ফিরে আসছেন। বর্তমানে তিনি চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মেয়ে লামিয়া চৌধুরী ও ছেলে শাফায়েত চৌধুরী। তবে দিতি এখনো শঙ্কামুক্ত নন বরং তাঁর শরীরের অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে। তাঁর মাথার চুলও পড়তে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান মেয়ে লামিয়া চৌধুরী। সেই স্ট্যাটাসে লামিয়া আরো বলেন, ঝরে পড়া মাথার চুলগুলো নিজের কাছে জমিয়ে রাখছেন দিতি।
এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবার থেকে দিতির মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন পরিচালক শিল্পী সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার।
দিতি কেমন আছেন জানতে চাইলে মুশফিকুর রহমান গুলজার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘লামিয়ার সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে ও আজ বুধবার সকালে ভাইবারে আমার কথা হয়েছে। দিতি ভালো নেই। তাঁর শরীরের উন্নতির হওয়ার আর কোনো আশা দেখছেন না চিকিৎসকরা। সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আল্লাহ্ চাইলে দিতি বেঁচে থাকতে পারেন। এ ছাড়া আর কোনো ভরসা নেই। লামিয়া আমাকে আরো বলেছেন, তাঁরা শিগগিরই ঢাকায় ফিরে আসবেন। সেই প্রস্তুতি এখন নিচ্ছেন তাঁরা।’
এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দিতিকে চিকিৎসার জন্য চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের ২৯ জুলাই চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং সেটি সফল হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরলেও মাস না গড়াতেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর গত বছরের নভেম্বরের শুরুর দিকে দ্বিতীয় দফা চিকিৎসার জন্য দিতিকে ভারতে নেওয়া হয়। সে সময় আবার অস্ত্রোপচারের পর শঙ্কামুক্ত অবস্থায় ছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটে।
সোমবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেয়ে লামিয়া লিখেছেন, ‘তিনি (দিতি) মারা যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে আমাকে কোনো প্রশ্ন করবেন না। আর তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন এ ধরনের বাজে আশ্বাসও দেবেন না। চিকিৎসকদেরও আর কিছু করার নেই। বিকিরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে এখন তিনি আরেক রোগ পারকিনসন্সে আক্রান্ত। ক্যানসার তাঁকে মারছে না। মায়ের টিউমারও ফিরে আসেনি। এই বিকিরণের কারণেই মারা যাচ্ছেন মা। আমি আর আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। আমি আর মায়ের সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করব না। আর আপনারা যদি প্রার্থনা করেন, তাহলে দোয়া করুন যেন মা তাড়াতাড়ি আর কষ্টহীনভাবে যেন পৃথিবী ত্যাগ করেন। গবেষণাগারের ইঁদুরের জীবন নিয়ে তিনি যেন না বাঁচেন। যদি আল্লাহ দয়াশীল হন, তাহলে মায়ের প্রতি দয়া দেখাবেন আর এই কষ্ট সহ্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেবেন। আল্লাহ আমার মাকে মৃত্যু উপহার দিন। আপনার ওপর মায়ের ইমান আছে। এমনকি এখনো তিনি আমাদের ডাকেন না, আপনাকে ডাকেন। আল্লাহ আপনি যা ভালো মনে করেন, তাই করেন।’


