সরকারের প্রথম শ্রেণির ক্যাডার, নন ক্যাডার পদের বৈষম্য সৃষ্টির পর এটি সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর বকুনি খেয়ে অর্থসচিব তাকে বলেছে, ‘গেজেট প্রকাশের সময় ভুল হয়ে গেছে’। কিন্তু এই ভুল কিভাবে সমাধান হবে তার কোনো দিক নির্দেশনা দিতে পারেননি তিনি। এছাড়া মন্ত্রীদেরও অনেকে পে স্কেলের সঙ্গে জড়িত মন্ত্রীদের সমালোচনা করেছেন। এসব বিষয় খুব দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু, আগের দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোর কি হবে, এছাড়া আন্ত:ক্যাডার বৈষম্যের কি হবে তা বিদ্যমান গেজেটের শুধু ব্যাখ্যা দিয়ে পার পাচ্ছে না অর্থ মন্ত্রণালয়। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সবমিলিয়ে একটি অদ্ভুত তালগোলে পড়ে গেছে খোদ অর্থমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানায়।
বেতন স্কেলে বৈষম্যের পর এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে যোগদানের ক্যাডার-নন ক্যাডার বৈষম্য থাকবে না। বিসিএস ক্যাডার এবং পিএসসি বা বিভাগীয় চাকরি হওয়া ননক্যাডাররা অষ্টম গ্রেড পাবেন। তবে সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদ বাদে নবম ও পুলিশের ওসি ৯ম গ্রেড পাবেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সামনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের শতভাগের বেশি বেতন বৃদ্ধি করার পরেও কেন এসব বৈষম্য করা হলো? এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে এসব বিষয় সুরাহা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আপনারা মন্ত্রীরা কি করলেন?
ওই কমিটিতে থাকা এক মন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষকসহ সবার সঙ্গে কথা বলে একটা সমাধানে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই বৈঠকের সুপারিশগুলো অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয় না শুনে না জেনেই হঠাৎ করেই গেজেট প্রকাশ করে দিল। গেজেটে আগের সিদ্ধান্তের অনেক বিষয়ে প্রতিফলন ঘটেনি।
এই কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কেন হলো? ওই কমিটির মিটিংয়ে কোন কোন সচিব ছিলেন তাদের নাম বলেন।
বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত সভা কমিটিতে নেয়া সমঝোতার সব সিদ্ধান্তগুলো গেজেট না আসার কারণ জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এর জবাবে অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, গেজেট প্রকাশে কিছু ভুল হয়েছে।
এরপর পে-স্কেলে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা সরকারি চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার অষ্টম গ্রেড আর নন-ক্যাডার নবম গ্রেড প্রদান, ক্যাডার, নন-ক্যাডার ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্যের বিষয়টি তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা ব্যাখ্যায় বলা হয়, সরকারি প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে বিসিএস ক্যাডার অষ্টম গ্রেড ও ক্যাডার না পাওয়া কর্মকর্তাদের নবম গ্রেড, পুলিশে নন-ক্যাডার নবম, সেনাবাহিনীতে নন-ক্যাডার পদে নবম গ্রেড পাবে। এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে নন-ক্যাডার চাকরিতে অষ্টম গ্রেড পাবেন। জারি করা পে-স্কেলে এসব স্পষ্ট বলা হয়নি। ফলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
এসব বিষয় খোলাসা করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে স্পষ্টকরণ ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু, সোমবারের বকুনির পর মঙ্গল ও বুধবার এ নিয়ে একের পর একজনের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠকে কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না অর্থসচিবসহ অন্যরা। তাই এখন কি করা যায় তাই তারা ভাবছেন। কারণ, গেজেট তো হয়েই গেছে- এখন নতুন করে শুধু ব্যাখ্যা দিয়েই সমাধান হবে না। কারণ, জটিলতা অনেকগুলো স্থানেই হয়েছে।
শিক্ষকদেরও চাকরির বয়স ৫৯ করার যুক্তি প্রধানমন্ত্রীর:
বেতন স্কেলে সচিবদের সমকক্ষ হতে আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা সচিব হতে চান আমি তা করব। তবে তাদের বয়স ৬৫ বছরের পরিবর্তে সচিবদের মতো ৫৯ বছর করব। তারা ৯টা-৫টা অফিস করবেন। কনসালট্যান্সি করতে পারবেন না। শিক্ষকের মর্যাদার কথা বলে তিনি বলেন, প্রফেসর আনিসুজ্জামান বড়, না সচিব বড়। আনিসুজ্জামান স্যার তো আনিসুজ্জামানই, তার সঙ্গে কোনো সচিবের তুলনা হয় না। শিক্ষকরা যখন সচিব হতে চান তাই করব। আপনি (শিক্ষামন্ত্রী) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এটা বলবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ আন্দোলনরতদের (২৬ ক্যাডার, প্রকৃচি) সঙ্গে আলাদা বসে সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে অর্থ সচিবকে নির্দেশ দেন তিনি। এসব আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে রাখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
o পে স্কেলে আমলে নেয়া হয়নি প্রচলিত বিধি, আইন ও সুপারিশ
0 পে স্কেল নিয়ে অসন্তোষ, ক্ষোভ অব্যাহত
0 পে স্কেল নিয়ে খামাখা আন্দোলন হচ্ছে, ননসেন্স: অর্থমন্ত্রী
0 ‘বেতনের জন্য নয়, আন্দোলন মর্যাদার’
o পে স্কেলের গেজেটের দাম ১৬ টাকা (মূল কপি দেখুন)


