বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শুধু মেধাবীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন না

Ali-R-Rajiআলী আর রাজী।

দেশের সবচে মেধাবী ছেলেমেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন বলে নানান কোণ থেকে বলা হচ্ছে। এটা একটা মধুর বাজে কথা। রটনা মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম- দ্বিতীয় হলেই কেউ সবচে মেধাবী হয়ে যায় না। এছাড়াও কথা আছে, কেবল ফলাফল তালিকার শীর্ষে থাকারাই শিক্ষক হন না, তালিকার তলানিতে থাকা শিক্ষার্থীও নানান কায়দা-কানুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বনে যাচ্ছেন। এসএসসি- এইচএসসির কোন একটাতে দ্বিতীয় শ্রেণী নিয়ে এ যুগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হচ্ছেন অনেকে, মার্স্টাসে ফিল করেছেন শিক্ষক হতেই হবে, রেজাল্ট ভাল না, কি করা- এমফিল বা ধরাধরি করে ঢুকে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের নাম ধরে ধরে বলতে পারব, ফলাফল তালিকার তলানিতে থাকার পরও যারা নানান চক্কর কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে গেছেন। সুতরাং নিজেদের সবচে মেধাবী মনে করা বা দাবী করা কিংবা আরেক জন পিঠচাপড়ে দিলে তা গ্রহণ করাটা একই রকম গর্হিত।

বাংলাদেশে কোন কিছু নিয়েই বড় সময় ধরে আলোচনা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আন্দোলন/হুমকি তুলে নিলে এখনই হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা নিয়েই আলোচনা-সমালোচনা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা-দিক্ষার পরিস্থিতি এতো খারাপ যে এ নিয়ে বিস্তর কথা হওয়া জরুরি হয়ে গেছে। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এই সুযোগটা নেওয়া উচিত। তাদের বলা উচিত শিক্ষার নামে কী চলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর পড়ালেখা খারাপ হয় না বলেই আমার ধারণা কিন্তু কলা, সমাজবিদ্যা আর বাণিজ্যের অবস্থা ভাল ঠেকে না। কেবল কি বেতন-ভাতা, টাকা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট কাজও করেন না।

আমার বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নোটিশবোর্ডে ঝুলান ক্লাসরুটিনগুলো যাচাই করলেও বেরিয়ে আসবে শিক্ষকরা সপ্তাহে কয়টি ক্লাস নেন এবং কীভাবে বছরের পর বছর একই কোর্স কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই পড়িয়ে যান। এই শিক্ষার্থীরাই তো রাজনৈতিক নেতা বা আমলা হন, জেনে-শুনে কেন তারা শিক্ষকদের মর্যাদা দিতে যাবে?

আমি নিজের কথা বলতে পারি, সমাজ যে সম্মান আমাকে দেয় আমি তাতে লজ্জা বোধ করি, খুউব ভাল করে জানি, তারা না জেনে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেই এই সম্মান দেখাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানে, তাই তারা এই ভুল করে না। সুতরাং শিক্ষার্থীরা যখন রাষ্ট্র চালায়, আমলা হয় তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেবল করুণাই করার কথা। তাই হচ্ছে। এটি আক্ষেপ নয়, আত্ম-উন্মোচনের চেষ্টা। সে চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে অংশ নেওয়া উচিত- দেশের স্বার্থে- কঠোর সত্যগুলো তুলে ধরা উচিত জাতির সামনে। জানানো উচিত, যা তারা শিখতে এসেছে তা তারা পাচ্ছে কি না? যে শিক্ষা তারা নিচ্ছে তা তাদের নিজেদের বা সমাজ-দেশের কোন কাজে আসছে কি না? এই শিক্ষকদের সত্যিই সম্মান জানানোর কিছু আছে কি না?

খন্দকার আলী আর রাজী: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান

আরও পড়ুন