রাত দশটা বাজলেই ঢাকা সহ সারাদেশে পুলিশের শুরু হয় চেকপোস্ট ব্যবসা। এটা দিয়ে কতটা নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করেন তা তারাই জানেন। যদিও আমরা দেখি চেকপোস্টে তল্লাশি। তবুও তো বিদেশি খুন হয়েছেন, সে ইতালীয়ই হোক, বা সৌদি নাগরিক খালাফই হোক। এছাড়া ছিনতাই-রাহাজানি নিত্যকার ইস্যু। চেক পোস্টে কি হয় তা ‘পরিচয়’ থাকা মানুষরা ছাড়াও সাধারণ রিকশাযাত্রীরা ভালোভাবেই জানেন। পরিচিত সমাজে সম্মানহানির ভয়ে অনেকে মুখ খোলেন না। এমনকি বাসায় গিয়ে বাবা-মা-স্ত্রীকেও বলেন না। সেই পুলিশের হাতে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা তথা একজন সাংবাদিক রাব্বির হয়রানি হওয়া নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার এস আই মাসুদের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছে সবাই। কিন্তু, এই এস আই মাসুদ কি একা একজন?
পুলিশে থাকা বন্ধুদের মধ্যে যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তারা অনেকেই হাসতে হাসতে ব্যক্তিগত আড্ডায় বলেছেন, “আরে চেকপোস্ট মানে তো জাল নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়ার মতো!”
প্রতি রাতে এই টহল দলগুলো কি করে তার নমুনা হয়তো এই মাসুদের কর্মকাণ্ড। কিন্তু, নিয়তই যে বস্তিবাসীসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর মানিব্যাগ তল্লাশির নামে টাকাপয়সা রেখে দেওয়া হয় তা কে বলবে? প্রতিটি টহল দলের কাছে দুই চারটা ইয়াবা ও ডালের বোতল থাকে। কাউকে ধরে যদি ‘মক্কেল’ মনে হয় তবে এটা দিয়েই তাকে ফাঁসানো হয়। বেশ কয়েক বছর আগে গাঞ্জার পুড়িয়া ধরিয়ে দিয়ে ফাঁসানো হতো। এখন চলছে ইয়াবা। এর প্রমাণ পাওয়ার জন্য নিজেরা একবার রিকশায় বা হেঁটে তথাকথিত ওই চেকপোস্ট দিয়ে রাতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
পুলিশ প্রধানও যদি হুটার-প্রটোকল ছাড়া রিকশায় রাতে যান বা হেঁটে চেকপোস্ট পার হন তখন তিনি কি ধরনের অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন তা জানতে ইচ্ছা হয়।
অপরাধীরা নিশ্চয়ই পুলিশকে ভয় পাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ বুকে হাত দিয়ে বলুক, তারা পুলিশ দেখলে ভয় পায় কি না?
অনেকগুলো গুণবাচক শব্দের সমাহারে পুলিশ শব্দটি হয়েছে বলে অনেক থানায় লেখা থাকে। এই গুণবাচক শব্দের ধারক ও বাহক পুলিশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বেতন খেয়ে, সরকারি পোশাক গায়ে দিয়ে যখন সেই দেশের মালিক জনসাধারণের নিরাপত্তার বদলে হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তখন তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।
পুলিশে কর্মরত বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্যতার কারণে আমি মনে করি, বাস্তবতা হলো, থানা কেন্দ্রীক কয়েকজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ও দারোগানামীয় উপ-পরিদর্শক বা সহকারী উপ-পরিদর্শকদের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর দক্ষতাই ওঠে প্রশ্নের মুখে। এই মাসুদরা সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়। ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও মাঝেমধ্যে এদের জন্য কোনঠাসা হয়ে পড়েন। তাই এসব নিয়ে ভাবতে হবে পুলিশের শীর্ষ পদের কর্মকর্তাদেরও। আবার এটাও সত্যি, যদি ‘শিক্ষিত’ ও ’নীতি নির্ধারকরা’ এদের যদি শুধু ‘ক্যাশ মাস্টার’ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে কিন্তু সর্ষের ভূত তাড়ানো যাবে না।
তাই, শুধু এক এস আই মাসুদকে দোষ দেবেন না প্লিজ! ও তো ভাতের হাঁড়ির একটি ভাতই মাত্র….
আনোয়ারুল করিম রাজু: দৈনিক আমাদের অর্থনীতির বিশেষ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সংগঠন সাউথ এশিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ নিয়ে আরও পড়তে পারেন:
o মধ্যরাতে পুলিশের তল্লাশির বাণিজ্য: ‘ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়’
o আমিও হতে পারতাম কাদের কিংবা লেমন!
o হায়রে পুলিশ: একদিকে এটা, অন্যদিকে উনি
o সিভিল ড্রেসে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের ‘দূর-ছাই, ভাগ শালা’ ব্যবহার



