বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৩৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু

DU-Closedনতুন বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বহাল ও বেতন কাঠামো নিয়ে সমস্যা নিরসনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে কর্মবিরতি চলছে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে আজ সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল সকালে ফোনে এনটিভি অনলাইনকে জানান, কর্মবিরতি চলাকালে ক্লাস ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ থাকবে।

ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে  চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান  মাকসুদ কামাল।

তবে শিক্ষকদের এই কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়,  ক্লাসগুলোয় তালা ঝুলছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও ফাঁকা, ছাত্রছাত্রী নেই। এ ছাড়া কোনো বাসও ক্যাম্পাস চত্বর ছেড়ে যায়নি।

গত ২ জানুয়ারি ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। সেই ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে গেলেন শিক্ষকরা।

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ ও অন্যান্য অসংগতি দূর করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়লে তার জন্য অর্থমন্ত্রী দায়ী থাকবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব এস এস এম মাকসুদ কামাল।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতিকালে কলাভবনের সামনে বটতলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মাকসুদ কামাল।

ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমরা গত আট মাসে কোনো আন্দোলনে যাইনি; বরং আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চেয়েছিলাম।’

‘অর্থমন্ত্রী আমাদের একবার আশ্বাস দেন, আবার সেই আশ্বাস সম্পর্কে আর কোনো অগ্রগতির কথা জানান না। এখন অর্থমন্ত্রী বলছেন, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পূর্ণ কর্মবিরতি চলবে,’ বলেন এস এস এম মাকসুদ কামাল।

গত ২ জানুয়ারি এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। সে ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে গেলেন শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন