জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির নেতারা বলেছেন, যতই উন্নয়নের কথা বলা হোক না কেন, বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসা এ সরকারের গায়ে যে কালিমা লেগেছে, তা মুছবে না। সরকার উন্নয়নের ধোঁয়া তুলে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর সরকারের দুই বছর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তাঁর এই ভাষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনকে সহিংসতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেন। কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দলের নেত্রী ও নেতারা মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে। এটা সহ্য করা হবে না।’
তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ নিয়ে তাঁদের দল আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একটি প্রশ্নবিদ্ধ, বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। দলটির ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়াই দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই সরকার যতই উন্নয়নের কথা বলুক না কেন, ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসায় যে কালিমা তাদের গায়ে লেগেছে, তা দূর হবে না। উন্নয়নের কথা বলে কালিমা মোচন হবে না। তা ছাড়া সরকারের দুর্নীতির কথাও সবার জানা। তাই প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়নের কথা বলছেন, তা অন্তঃসারশূন্য।
সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই সরকার নিশ্চয় উন্নয়ন করেছে। তবে সরকারকে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশকে গণতন্ত্রের পথে আনতে হবে। উন্নয়নের কথা বলে তিনি গণতন্ত্রকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘বিএনপির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বর্তমান সরকার রক্ষা করে যাচ্ছে। যদি এটা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ভালো। সব প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বক্তব্যে উন্নয়নের এ ধরনের গতানুগতিক কথা বলেন। তিনি যদি উন্নয়ন করতে পারেন, তাহলে বিএনপির অখুশি হওয়ার তো কিছু নেই।’
এই আইনজীবী বলেন, বিএনপি সংসদে যেতে যায়। সংসদীয় ধারার রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে চায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায়। গতানুগতিক এই বক্তব্য নিয়ে বলার কিছু নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভাষণে নতুন কিছু বলেননি। তিনি স্বভাবসুলভ যে ভঙ্গিতে কথা বলেন জাতির উদ্দেশে ভাষণে সে কথাই বলেছেন। গণতন্ত্রের কথা ভুলে গিয়ে উন্নয়নের কথা বলেছেন। অথচ গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন অর্থহীন।


