বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সাফল্যের পাল্লা ভারী ব্যর্থতাও রয়েছে

untitled-17_185843টানা হরতাল ও দীর্ঘ হিংসাত্মক অবরোধের মতো বৈরী বাস্তবতায় আজ থেকে দু’বছর আগে দেশ পরিচালনায় কঠিন দায়িত্ব হাতে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভয়ঙ্কর জঙ্গি তৎপরতা, আগুন সন্ত্রাস, বিদেশি নাগরিক হত্যা ও ব্লগার হত্যার মতো পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশকে নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সামনে এগিয়ে নিতে বিশাল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। আছে বাধা, আছে বিঘ্ন, আছে নাশকতা; তবুও বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে গত দু’বছরে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নে হাজার হাজার মানুষ অহর্নিশ ব্যস্ত। বিশাল কর্মযজ্ঞে স্বপ্নের সোপান তৈরি হচ্ছে এখন। রাজধানীর রূপকল্প দ্রুত বদলে যাচ্ছে। রাজধানীকে বাসযোগ্য করার সংগঠিত উদ্যোগ অতীতে কখনোই ছিল না। মধ্যম আয়ের দেশের গৌরবটিকা আমাদের জন্মভূমির ললাটে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা শতভাগের বেশি বাড়িয়ে এক বিশাল অঙ্কের ব্যয়ের বোঝা সরকার কাঁধে নিলেও এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রতি সুবিচার হয়নি বলে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে। সকলের প্রত্যাশা, এ সমস্যারও দ্রুত সম্মানজনক সমাধান হবে।

আওয়ামী লীগের দু’বছরের শাসনামলে সাফল্যের পাল্লা ভারী হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতাও তুচ্ছ করে দেখার মতো নয়। আমাদের জিডিপি বৃদ্ধি পাওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষণ দৃষ্টিগ্রাহ্য হলেও অর্থনীতির চাকা যতখানি
সচল হওয়া উচিত ছিল, ততখানি হয়নি। নানা দুর্বলতায় বিএনপি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও কিছুটা যে অস্বস্তি রয়েছে, তা সরকারের নীতিনির্ধারকরাও স্বীকার করতে দ্বিধান্বিত নন।

বিদ্যুৎ-গ্যাসের সুনিশ্চিত সরবরাহ না থাকায় শিল্প খাতে আশানুরূপ গতি আসছে না_ এ কথা অতিসম্প্রতি বাণিজ্য ও শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের দ্বিতীয় বছরে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রকাশ্য জনসভা করেছেন। রাজনীতিতে উত্তেজনা প্রশমনে এই দৃষ্টান্ত আগামীতেও অনুসরণ করা হবে বলে বিশিষ্টজন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তির সম্ভাবনা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। দখলদারিত্ব চলছে। সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর একশ্রেণীর নেতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। তাই সরকারকে দুর্নামের দায় নিতে হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। অপকর্মে লিপ্ত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতা ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন।

এই সরকারের গর্ব করার মতো সাফল্যের পুরোভাগে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির রায় কার্যকর। দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে সাকা চৌধুরী, কামারুজ্জামান ও মুজাহিদের মতো রাজাকার ও আলবদর নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। সম্ভবত অন্যদেরও একই পরিণতি হবে। দক্ষ, গতিশীল ও সৃজনশীল নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। নারী ও যুবশক্তির নব অভ্যুদয় ঘটছে গত দু’বছরে।

অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অবশ্য মনে করে, আওয়ামী লীগ দেশ শাসনের নামে নির্যাতনের শাসন চালু করেছে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যম শৃঙ্খলিত। তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছে।

বছরজুড়ে একের পর এক খুন ও হামলার ঘটনায় বিএনপির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। তবে বছরের শেষ দিকে বিএনপি পৌরসভা নির্বাচনে এলে বেশ স্বস্তিতে থাকে সরকার। দলীয় প্রতীকে সব দলের অংশগ্রহণে ২৩৪ পৌরসভায় নির্বাচন সরকারের জন্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হলেও, কারচুপির ঘটনা কিছুটা হলেও বিতর্ক তুলেছে। তবে বিশিষ্টজন দুই প্রধান দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন। ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে সরকার স্বস্তিতে থাকলেও ওই নির্বাচনও একেবারে বিতর্কের বাইরে ছিল না।

বিদেশি হত্যা :ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা ও জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যার ঘটনা বড় অস্বস্তির ছিল। একজন ব্লগার হত্যার বিচারের ঘটনা কিছুটা স্বস্তি দিলেও অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়, ফয়সাল আরেফিন দীপনসহ পাঁচজন ব্লগার খুনের ঘটনা সরকারকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। শিয়া ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদ এবং কান্তজিউর মন্দিরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কিছুটা হলেও কাবু হয়েছে সরকার। রাজধানীতে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিল-পূর্ব প্রস্তুতিতে বোমা হামলার ঘটনা নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে। ধর্মযাজকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় সরকার বিব্রত হয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে এ সময়ে।

মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ :কয়েকজন এমপির দখল-বাণিজ্যসহ কয়েকটি ঘটনা বিতর্কের জন্ম দেয়। এ ক্ষেত্রে একাধিক মন্ত্রীর নামও আসে। গাইবান্ধার এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের গুলিতে শিশু আহত হয়। ওই এমপি গ্রেফতার হলেও সমালোচনা থামেনি। ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় তার অফিসের একজন কর্মকর্তার কক্ষ ভাংচুর করে আলোচনার শিরোনাম হয়েছেন। এমপি পিনু খানের ছেলে রনির বিরুদ্ধে দু’জনকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য দ্রুততম সময়ে ওই জোড়া খুনের চার্জশিট দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে সরকার।

নতুন মাইলফলক :এ বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর ছিল সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। প্রতিবেশী এই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপড়েন থাকলেও নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্য দিয়ে এর অনেকটা নিরসন ঘটেছে। বিশেষ করে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান এক নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে। এর মধ্য দিয়ে ৬৮ বছর পর ছিটমহল বিনিময়ে খুশির জোয়ার নামে। দুই দেশের আবদ্ধ মানুষের দুঃসহ যন্ত্রণা শেষ হয়। তবে তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় দু’দেশের সম্পর্কে বিষফোঁড়ার যন্ত্রণা থেকেই গেছে।

বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল :বহির্বিশ্বে এ বছর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেড়েছে। নির্বাচন, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে মতভেদ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ভারত ও চীনের সঙ্গে সখ্য বেড়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক জোটে সমর্থন দেওয়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় কার্যকরের পর বিবৃতি, জাল মুদ্রা পাচার ও জঙ্গি অর্থায়ন নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে শীতল সম্পর্কের বিষয়টি সবাই সমর্থন করেছে।

নিষ্প্রাণ সংসদ :দশম সংসদ নিষ্প্রাণ। সত্যিকার বিরোধী দল অনুপস্থিত। মন্ত্রিসভায় থেকে জাতীয় পার্টির প্রধান বিরোধী দল হওয়াটা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। নানা ছুতোয় সংসদ বর্জন না করার বিষয়টি ইতিবাচক হলেও সরকারের সুরে কথা বলায় বিরোধী দলের ভূমিকা ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনের অব্যাহত উদ্যোগ বেশ প্রশংসনীয়। উদ্বেগজনক না হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়।

দুর্নীতি :দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুরোপুরি স্বাধীনভাবে চলতে পারছে কি-না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে দুর্নীতির তদন্ত ও অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে দুদক মন্ত্রী-এমপি-আমলাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখনও ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। এ বছর জিনিসপত্রের দাম ছিল নাগালের মধ্যে। শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই পেঁৗছে দিয়ে সরকার আবারও সাধুবাদ কুড়িয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের পর দল গোছাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বেশিরভাগ জেলা-উপজেলার সম্মেলন হয়েছে। জাতীয় সম্মেলন ২৮ মার্চ। বিদ্যুৎ সংকটের আপাত সমাধান হলেও চাহিদা বেড়েছে। শিল্পে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন বিভাগ করায় উৎফুল্ল হয়েছে বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী। সৌদি আরবে জনশক্তি রফতানি শুরুর ঘটনা সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। বৈশাখী বোনাসসহ পে স্কেল ঘোষণা করায় সরকার প্রশংসিত হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় থমকে আছে। সরকারের আমলানির্ভরতা কাটছে না।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখনও শিষ্টাচার এবং সহিষ্ণুতা গড়ে ওঠেনি। সরকার ও সরকারবিরোধী নেতাদের বেসামাল কথাবার্তায় জনগণ বীতশ্রদ্ধ, বিব্রত। শরিক দলের সঙ্গেও কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের। পৌরসভা নির্বাচনে ১৪ দলগত জোট না হওয়ায় শরিকদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অন্যতম শরিক জাসদ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন সরকারি দলের কয়েকজন নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি :এ বছর দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নেতৃত্বের অবদানের জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনপি) সর্বোচ্চ পরিবেশবিষয়ক সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ওয়াশিংটনভিত্তিক সাময়িকী ফরেন পলিসির বিশ্বের একশ’ চিন্তাবিদের তালিকায় নাম আসে শেখ হাসিনার। তিনি ওই তালিকায় সিদ্ধান্তপ্রণেতা ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ জনের তালিকায় ছিলেন।

বিশিষ্টজনের চোখে :সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, সরকারের দুই বছরে গণতন্ত্র শক্তিশালী ও সুসংহত হয়েছে। সেসঙ্গে একসময় সংবিধানে ইনডেমনিটির মতো কালো আইন থাকলেও এখন জাতি বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ও শাস্তি কার্যকর হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। এসব কিছুই দেশ ও জাতির জন্য অসাধারণ অর্জন।

বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, গত দুই বছরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বহু ক্ষেত্রেই সরকার সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজসহ আরও অনেক অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সফলতা এসেছে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচি যতটা প্রসারিত হয়েছে, ততটা গভীরতা পায়নি। দুই বছরে সরকার রাজনৈতিক বিষয়ে আরও বেশি দৃষ্টি দিতে পারত। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রেই সরকারের মনোযোগ কম বলে মনে হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার কারণে সরকারের প্রথম বছরটি উৎকণ্ঠায় কেটেছে। ওই বছরে এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া স্থিতিশীলতা বিরাজ করলেও দ্বিতীয় বছরে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পথ ছেড়ে ইতিবাচক রাজনীতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন উভয়পক্ষ এটা কতটা ধারণ করবে, কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্রিয় থাকবে_ তার ওপর নির্ভর করবে গণতন্ত্রের পথচলা।

শেষ কথা :সামগ্রিক বিবেচনায় সরকারের দ্বিতীয় বছরটি ভালোই কেটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা মানুষের। এই প্রত্যাশা পূরণে সরকারের সামনে আরও তিনটি বছর রয়েছে। তবে আগামীর পথ কুসুমাস্তীর্ণ নাও হতে পারে। তাই রাজনৈতিক মহল এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আরও পড়ুন