বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত বছর দেশ থেকে ৭৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
‘এই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে অর্থনীতিতে সীমাহীন লুণ্ঠনের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে জনগণের অর্থ লুট করা হয়েছে। এ সরকারের আমলে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। শুধু এ বছরে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। পত্রিকান্তরে আমরা জানতে পেরেছি’, বলেন ফখরুল।
‘কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নাই। অর্থনীতির উন্নয়নে যে কল্পকাহিনী সরকার প্রচার করেছে, তার সত্যতা প্রকাশ হয়ে গেছে’, যোগ করেন ফখরুল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সম্প্রতি সিপিডি (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) এবং টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ (বিশ্বব্যাংক) অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা একই মত পোষণ করে।’
‘সাম্প্রতিককালে বিনিয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সীমাহীন দুর্নীতি ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্যে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন’, যোগ করেন ফখরুল।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর গতকাল মঙ্গলবারের ভাষণ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে, জনগণ এমনটা আশা করেছিল। কিন্তু বক্তব্যে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না।
ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান প্রমুখ।


