বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পে স্কেলে বৈষম্য দূর করতে ১৪ সপ্তাহ সময় চায় সচিব কমিটি

govt-jobdddপ্রজ্ঞাপন হয়ে যাওয়া অষ্টম পে স্কেল নিয়ে বিভিন্ন ক্যাডার ও শিক্ষকদের নানা ধরনের আপত্তি ও বৈষম্য নিরসনে ১৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছে সচিব কমিটি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৭২ জন সচিবের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০ সচিব এ আলোচনায় অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সভায় নতুন পে স্কেল নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধান করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের কাছ থেকে প্রস্তাব আনতে সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ প্রক্রিয়ায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের পদোন্নতি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধানও করা হবে। নতুন পদ সৃষ্টি না করেই পুরনো পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট সংকট দূর করার পাশাপাশি পদোন্নতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২৬টি ক্যাডারের কয়েকটি পদকে আপগ্রেড করা হবে। বাড়ানো হবে গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২-এর পদ। পাশাপাশি ক্যাডার-নন ক্যাডারদের এন্ট্রি পদের বেতন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় সচিবরা দাবি করেন, তাদের অধীনে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে (অন্য ক্যাডারের) গ্রেড-১ মর্যাদা (সচিবের মর্যাদা) দেওয়া হলেও মন্ত্রণালয়ের সচিবরা যেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। এ সময়ে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ব্যাপারে তার নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রতিবেদন দেবে। সে আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হবে। সদ্য ঘোষিত পে স্কেলে বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে সম্প্রতি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কর্মসূচি চলছে।

শিক্ষক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক এবং ২৬টি বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তারা ছাড়াও ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। এ অবস্থায় মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কোর কমিটিকে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ। এরই মধ্যে তারা প্রকৃচিসহ ২৬ ক্যাডারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর হয় সচিব সভা।

সভায় মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রকৃচির সঙ্গে কোর কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সভাকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আগামী ১৪ সপ্তাহের মধ্যে পে স্কেল নিয়ে সৃষ্ট সংকট দূর করা হবে। তিনি সচিবদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের অধীনের ক্যাডারদের পে স্কেল নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তারা সেসব ক্যাডারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আনবেন। পরে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, তার একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। পরে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয় বৈঠক করে এর সমাধানের উপায় বের করবে।

তিনি জানান, কোর কমিটি আন্দোলনরত পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করবে। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানোর বিষয়ে সচিবদের আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়, মন্ত্রিসভার এজেন্ডা উত্থাপনের আগে সচিবরা যেন পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে আসেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো অনেক ফাইলে ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ছে। এতে অনেক সময় বিব্রত হতে হয়।’

বৈঠকে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক জানান, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ হাজার ৪০০ প্রকৌশলী পে স্কেল নিয়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক ক্যাডার রয়েছেন। এখানে বৈজ্ঞানিকও রয়েছেন। নতুন পে স্কেলে তাদের পদোন্নতিতে সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে তারা দাবি করছেন। এ সময়ে মুখ্য সচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারদের কী কী সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করে যাচাই-বাছাই করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধানদের গ্রেড-১ দেওয়ায় সচিবদের আলাদা মর্যাদা দেওয়ার দাবি করেন।

o প্রধানমন্ত্রীর বকুনি খেয়ে বৈষম্য সমাধানে তালগোলে অর্থসচিব

o পে স্কেলের খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সই করা নোটসিট গায়েব!

আরও পড়ুন