বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

অভাবগ্রস্থের চেয়ে লোভীর দুর্নীতি ভয়াবহ

anisuzzaman_186449ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি আমাদের সব ক্ষেত্রে গ্রাস করেছে। কিছু মানুষ অভাবের কারণে দুর্নীতি করলেও প্রকৌশলীরা দুর্নীতি করেন লোভের কারণে। অভাবগ্রস্থের চেয়ে লোভীর দুর্নীতি অনেক ভয়াবহ।
শুক্রবার বুয়েট অডিটরিয়ামে ড. এম এ রশীদ স্মারক বক্তৃতা তিনি এসব কথা বলেন। বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক খালেদা একরামের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের কাছে একজন সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও হতাশা’ শীর্ষক বক্তৃতায় আরও বক্তৃতা করেন বুয়েটের সাবেক উপাচার্য এমিরিটাস অধ্যাপক ড. ইকবাল মাহমুদ, অধ্যাপক ড. এম এ মতিন, অধ্যাপক ড. এম এ রউফ।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সভ্যতার শুরু থেকেই কোনো না কোনো রূপে প্রকৌশল চর্চার শুরু হয়েছে। চাকা আবিস্কারের মাধ্যমে সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছে। এক চাকাই সভ্যতাকে অপরিসীম অগ্রগতি দান করেছেন। একসময় ইঞ্জিনিয়ার মানে ছিলো ইঞ্জিনের চালক। তাও সামরিক ইঞ্জিনের চালক। আর ইঞ্জিনিয়ারিং মানে ছিলো সামরিক যন্ত্রকৌশল। সামরিক প্রকৌশল এখনো নানা মারনাস্ত্র তৈরি করছে। কিন্তু এসব ক্ষতিকর অস্ত্র যারা তৈরি করছেন পরবর্তিতে তাদের অপরাধ বোধ স্বীকার করাই ওই প্রকৌশলীর সামাজিক দায়িত্ব বোধ বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু আজ আর ইঞ্জিনিয়ারের সেই সংজ্ঞা নেই। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন পিরামিড, চীনের প্রাচীর, প্যারিসের ব্যাবিলীয় যারা তৈরি করেছেন তাদের সঙ্গে সামরিক প্রকৌশলের কোনো সম্পর্ক ছিলো না। ভালো সঙ্গে মন্দের যে পার্থক্য তা প্রকৌশলীদেরই ধরিয়ে দিতে হবে। প্রকৌশলগত যেসব নীতিমালা আছে তা জনগণকে আরও বেশি করে জানিয়ে দিতে হবে।

আনিসুজ্জামান আশির দশকের বুয়েটের এক শিক্ষার্থীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যে তথ্য শুনেছি তা কেউ একজন চ্যালেঞ্জ করে ভুল দাবি করলেই খুশি হব। প্রকৌশলীদের অনেক জ্ঞান রয়েছে। তাকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। দেশের জাতীয় পরিকল্পনা প্রণোয়নে প্রকৌশলীদের আরও বেশিসংখ্যক প্রতিনিধি থাকা উচিত। তাহলে দেশের সেরা মেধাবীদের জ্ঞান জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি আর উৎপাদনে কাজে লাগবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার কৃতি ছাত্র/ছাত্রীদের কারণেই সারাবিশ্বে পরিচিত মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই খ্যাতিমান অধ্যাপক বলেন, যে ব্যক্তির যোগ্য নেতৃত্বেও কল্যাণে আজ বুয়েট সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে তিনি হলেন ড. রশীদ। পূর্ব বাংলার কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষায় ব্যক্তির সীমা ছাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছেন তিনি।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান দশজন শিক্ষার্থীর নামের তালিকাও তুলে ধরেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আরও পড়ুন