বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশি কাজী এনায়েত উল্লাহ’র কাহিনী

প্রবাসী বাংলাদেশি কাজী এনায়েত উল্লাহফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন কাজী এনায়েত উল্লাহ। উচ্চশিক্ষার জন্য প্যারিসে গিয়ে শূন্য থেকে এখন প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো বা ৪৩০ কোটি টাকার মালিক তিনি। এনায়েত উল্লাহ রিয়েল এস্টেট, অ্যাভিয়েশন ও রেস্তরাঁ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ উন্নতির পেছনে রয়েছে তার অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম।

ঢাকার বনানীর এনায়েত উল্লাহ মহাখালী মডেল হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস ও ১৯৭৬-এ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৭৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য প্যারিস যান। তিনি প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।

এনায়েত উল্লাহ এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, প্যারিসে শিক্ষাজীবনের শুরুতে পারাক্লোস নামের একটি প্যাকেংজিং কারখানার গাড়িতে মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করতেন। তখন তিনি এক দিনে চার ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ ফ্রাঙ্ক (বর্তমানে ৪০০ ইউরো) আয় করে এক সপ্তাহের থাকা ও খাওয়ার খরচ চালাতেন। তারপর পর্যায়ক্রমে তিনি সেই কোম্পানিতে স্থায়ী চাকরি পান। ১৯৮৬ সালে যখন তিনি সেই কোম্পানি ছাড়েন, তখন মাসে সাড়ে ৮ হাজার ফ্রাঙ্ক (প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা) বেতন পেতেন।

তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে নিজেই একটি রেস্টুরেন্ট দেন। সে বছর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্যারিসে যান এবং আইফেল টাওয়ারের নিচে ভারতীয় খাবারের উৎসব করা হয়। তখন ভারতীয় খাবারের জনপ্রিয়তা দেখে তিনি নিজ জন্মস্থানের নামে ‘বনানী’ নামে একটি ভারতীয় খাবারের রেস্টুরেন্ট চালু করেন। চাকরি করে জমানো ৫ লাখ ২০ হাজার ফ্রাঙ্ক দিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই এই ব্যবসা শুরু করেন। নিজের পরিশ্রমে ভারতীয় খাবার রান্নার কাজও তিনি শিখে নেন। এরপর থেকেই এনায়েত উাল্লাহকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি একের পর এক রেস্টুরেন্ট চালু করেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক মানের ছয়টি রেস্টুরেন্ট, বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও ভবনের মালিক। এছাড়া আবাসন ব্যবসায়ও তিনি ভালো সফলতা পেয়েছেন। তার একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এনায়েত উজবেকিস্তান এয়ারলাইন্সের একজন পরিচালক। এই এয়ারলাইন্সের পুরো ইউরোপের টিকেটও তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি হয়। এজন্য ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পুরো ইউরোপের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কমিউনিটি সেবায় পরিচিত নাম কাজী এনায়েত উল্লাহ। কোনো বাংলাদেশি সমস্যায় পড়ে তার কাছে গেলে তিনি তার সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। সহযোগিতাকারী হিসেবে তার বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি পয়লা বৈশাখসহ বাঙালি সংস্কৃতির অনেক অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেন।

বড়ভাই কাজী সালামত উল্লাহর অনুপ্রেরণায় প্যারিসে পাড়ি দেওয়া এনায়েত স্প্যানিশ নাগরিক নিদি আলুন্সকে ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন। তবে বিয়ে করার আগে নিদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এনায়েত উল্লাহর মা মেহের নিগার পুত্রবধূ নিদির নাম দেন শাহিনা। এনায়েতের বাবার নাম কাজী আম্বের আলী। কাজী রায়হান উাল্লাহ, কাজী রিমান উাল্লাহ ও কাজী রোমান উল্লাহ নামে তার তিন ছেলে রয়েছে। এই পরিবার দুই বছর পরপর দেশে আসে এবং তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। তারা দ্বৈত নাগরিক।

ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষ করদাতা কাজী এনায়েত নিজের প্রতিষ্ঠিত বনানী গ্রুপের চেয়ারম্যান ছাড়াও বাংলাদেশ-ফ্রান্স ইকোনমিক ফোরাম, ইউরোপ প্রবাসীদের প্রিয় সংগঠন ‌’অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনে’র (আয়বা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলাদেশেও তিনি জমি বেচার ব্যবসা শুরু করছেন।

আরও পড়ুন