আন্দোলনরত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে ২৫ শতাংশকে গ্রেড-১-এ (সচিবের সমান) উন্নীত করা এবং কমপক্ষে ১২ শতাংশকে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান বেতন স্কেল দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেবেন শিক্ষকেরা। আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তাঁরা ওই প্রস্তাব দেবেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের একজন দায়িত্বশীল নেতা আজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে ফেডারেশনের মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যাতে আগের মতো সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকে, সেভাবেই তাঁরা আজ সরকারের কাছে প্রস্তাব দেবেন।
আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভায় শিক্ষকদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ ফেডারেশনের সভায় শিক্ষকদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে তা সরকারের কাছে দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে আন্দোলনরত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ওই প্রস্তাব দিচ্ছেন বলে জানান একজন শিক্ষক-নেতা।
সিলেকশন গ্রেড বহাল, গ্রেড-সমস্যা নিরসন ও পৃথক বেতন স্কেলের দাবিতে ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
বর্তমানে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১২ হাজারের কিছু বেশি। আর শিক্ষার্থী আছেন প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার।
শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে ক্লাস-পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেশনজটের আশঙ্কা করছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষকদের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষাকার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও অচলাবস্থা দূর করতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিদেশে থাকায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও থেমে গেছে। শিক্ষামন্ত্রী গত শুক্রবার রাতে লন্ডনে গেছেন। তিনি ফিরবেন আগামী বুধবার। আর অর্থমন্ত্রী এখন চীনে আছেন। ১৮ জানুয়ারি তাঁর দেশে ফেরার কথা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ গতকাল শনিবার বলেন, সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তাই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আজ সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তাঁরা এখন শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বিগ্নও।


