শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

সিনিয়র সেক্রেটারি পদ দুনিয়ার কোথাও নেই: শেখ রেহানার স্বামী


NEWSWORLDBD.COM - January 18, 2016

Shafiq-siddikপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র বোন শেখ রেহানার স্বামী অধ্যাপক ড. শফিক সিদ্দিক বেশ কিছু বিষয় নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন বেসরকারি একটি টেলিভিশনে। সেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের সচিবদের অদ্ভুত পদবী হচ্ছে এই ‘সিনিয়র সেক্রেটারি’, এটা দুনিয়ার কোনও দেশেই নেই।

তিনি আরও বলেছেন, “সেক্রেটারি দু’টা পাজেরো গাড়ি চালায়, দুই ড্রাইভার  ও চারটা পিয়ন পায়, ফার্নিশড বাসা পায়। কিন্তু আমরা অধ্যাপকরা এখনো রুমের দরজা নিজেরা খুলি। অ্যাটাচড বাথরুম নেই। পিয়ন-দারোয়ানও নেই। তবুও আমরা খুশি মনে আছি। আমরা সেক্রেটারির মতো পাজেরো গাড়ি চাই না। রিকশায় করে চলব, হেঁটে আসব। বড়জোর নিজেরা কেনা একটা রিকনডিশন্ড গাড়িতেই আমরা খুশি। তবে আমরা সিলেকশন গ্রেড চাই।”

অধ্যাপক ড. শফিক সিদ্দিক বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা অত্যন্ত দুঃখজনক। বেতন বৃদ্ধির পরে অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু ঝামেলা হয়েছে, মর্যাদার ব্যাপারে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে শিক্ষকদের মর্যাদা ও স্বাধীনতার কারণে আমরা অন্য চাকরি করিনি। দীর্ঘ ৪০ বছরে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা ১০ ভাগেরও কম অন্য সার্ভিসে গেছে। সব ভালো শিক্ষার্থী পছন্দ করল শিক্ষকতা।

তিনি বলেন, আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগত। অনেক নামকরা (মেধাবী) লোকেরা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফিক সিদ্দিক সম্প্রতি বাংলাভিশন-এর নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে বলেন, প্রথমেই পে-কমিশনের উচিত ছিল সিনিয়র সেক্রেটারি পদটা বাতিল করা। এটা তো মইন ইউ আহমেদের সৃষ্টি। এটা বাতিল না করে ছুরি চালিয়েছে আমাদের সিলেকশন গ্রেডের ওপর। অদ্ভুত, অদ্ভুত ব্যাপার। এটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার। ড. শফিক সিদ্দিক বলেন, আমাদের সিলেকশন গ্রেড নিয়ে এত ঝামেলা, আমরা তো সিনিয়র দাবি করিনি।

অধ্যাপক শফিক সিদ্দিক বলেন, অদ্ভুত ব্যাপার, শুনে অবাক হবেন। সিনিয়র সেক্রেটারি হবার ইতিহাসও আছে। সেক্রেটারি আর মেজর জেনারেল সমান। লেফটেনেন্ট জেনারেল সাধারণত আর্মি চিফ হতো। মইন ইউ আহমেদের সময় হঠাৎ করে ঘোষণা করা হল, ফোর স্টার জেনারেল না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের সাথে, ভারতীয় আর্মি চিফের সাথে তার কথা বলতে অসুবিধা হয়। সেজন্য উনি নিজেকে নিজে প্রোমোট করলেন ফুল জেনারেল হিসেবে। সঙ্গে সঙ্গে কিছু লোককে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদ দিল। তখন ওরা মনে করল, আমরা তো মেজর জেনারেলের সমান সেক্রেটারি। ওরা একটু অদ্ভুত পদ সৃষ্টি করল, ‘সিনিয়র সেক্রেটারি’। দুনিয়ার অনেক দেশে আমি খোঁজ নিয়েছি, এটা নেই। কীভাবে কীভাবে তারা এটা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফাইল সাইন করিয়ে নিয়েছে।

অধ্যাপক শফিক সিদ্দিক বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষকরা বোঝেন না। তো আপনি শিক্ষকদের বোঝান। উনি ডাকলে শিক্ষকরা যাবেন। একটু সমস্যা হয়েছে। শিক্ষক নেতাদের একটু দূরত্ব হয়েছে অর্থমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর সাথে। এটা কারা করেছে আমি বলতে চাই না। আমি অর্থমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আপনি শিক্ষক নেতাদের ডাকেন। এটা ইজি সমাধান করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষকদের নামে প্রচুর অসত্য কথা বলা হয়েছে। যেমন নিয়োগ প্রমোশন বিষয়ে। আরেকটা জিনিস রটেছে শিক্ষকরা নিজেরা নিজেরা প্রমোশন নেয়। আমি বলতে চাই, শিক্ষকদের নিয়োগ হয় অ্যাডহক ভিত্তিতে। যেটা কোনো সার্ভিসে নেই। সিলেকশন প্রসেসটার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। এক্সটার্নাল আছে। তার কাছে সব কাগজ যাবে। রিসার্চ পেপার, ডিগ্রি সবকিছুই দেখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে যে প্রপাগান্ডা চলছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, হাস্যকর ব্যাপার। বরং দেখা যাচ্ছে যুগ্ম সচিব পদে ৩৫০ আবেদন করেছে (প্রকৃতপক্ষে হবে পদোন্নতির শর্ত পূরণ করেছে) কিন্তু ৩৫০-ই প্রমোশন পেয়েছে। এটা তারা পদ সৃষ্টি করে নেয়। আমরা সেটা করি না। আমরা যোগ্য হলে, ‘রিকয়ারমেন্ট ফুলফিল’ করলে, ‘পাবলিকেশন্স’ থাকলে, ‘কোয়ালিফিকেশন ফুলফিল’ করতে পারার পর আমরা প্রমোশন বিবেচনা করি। সত্যি কথা বলতে কি, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রমোশন সবকিছুই একটা নিয়মের মধ্যে হয়। কোনো কিছু হলে সিনেটে ভিসির কাছে জানতে চাওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেকশন গ্রেড নিয়ে কথার যুক্তিতর্ক চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ সিলেকশন গ্রেডে সিনিয়র অধ্যাপক। এটা সেক্রেটারি স্ট্যাটাস। কিন্তু সিনিয়র সেক্রেটারির সমান নয়। আমরা সিলেকশন গ্রেড চাই। কিন্তু আমরা সেক্রেটারিদের মতো সুযোগ-সুবিধা চাই না। একটা সেক্রেটারি দুটা পাজেরো গাড়ি চালায়, দুই ড্রাইভার পায়, চারটা পিয়ন পায়, ফার্নিশ বাসা পায়, কিন্তু আমরা এখনো নিজেদের রুমের দরজা নিজেরা খুলি। একটা পিয়ন নেই। অ্যাটাচড বাথরুম নেই। দারোয়ান নেই। তবুও আমরা খুশি মনে আছি।

তিনি বলেন, আমরা সেক্রেটারির মতো পাজেরো গাড়ি চাই না। সেক্রেটারিদের ওটা দরকার আছে। আমরা ক্যাম্পাসে রিকশায় করে চলব, হেঁটে আসব। বড়জোর একটা রিকনডিশন্ড গাড়ি হলেই আমরা খুশি। তবুও আমরা খুশি মনে এভাবে আছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. শফিক সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেড নিয়ে মন্ত্রণালয় একটা অদ্ভুত কার্পণ্য করছে। জানি না কার ইঙ্গিতে হচ্ছে। আমি দশ বছর হলো প্রফেসর হয়েছি। আগামী জুনে অবসরে যাব। আমি সিলেকশন গ্রেড পাব না। এজন্য আমার দুঃখ নেই। কিন্তু চার ভাগের এক ভাগ সিনিয়র অধ্যাপক সিলেকশন গ্রেড পাবেন। এটা দিতে কার্পণ্য কেন আমি বুঝি না। তাকে তো পাজেরো গাড়ি দিতে হবে না, পিয়ন দিতে হবে না, ড্রাইভার দিতে হবে না, ফার্নিশ বাসা দিতে হবে না। তিনি বলেন, সপ্তম স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ছিল। একবার একটা জিনিস আমাদের দিয়ে কেড়ে নিলে আমরা কীভাবে মানব? সেটা কিছুতেই মানা যায় না।

অধ্যাপক শফিক সিদ্দিক বলেন, অদ্ভুত ব্যাপার, শুনে অবাক হবেন। দুনিয়ার অনেক দেশে আমি খোঁজ নিয়েছি, এটা নেই। কীভাবে কীভাবে তারা এটা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ফাইল সাইন করিয়ে নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের সিলেকশন গ্রেড নিয়ে এত ঝামেলা, আমরা তো সিনিয়র দাবি করিনি। প্রথমেই পে-কমিশনের উচিত ছিল সিনিয়র সেক্রেটারি পদটা বাতিল করা। এটা তো মইন ইউ আহমেদের সৃষ্টি। এটা বাতিল না করে ছুরি চালিয়েছে আমাদের সিলেকশন গ্রেডের ওপর। অদ্ভুত, অদ্ভুত ব্যাপার। এটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার।

তিনি আরো বলেন, আমাদের (শিক্ষক) কথা উঠছে বয়স নিয়ে। খুবই ইন্টারেস্টিং। শুনে অবাক হবেন, আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অবসরের কোনো বয়সসীমা নেই। ৭০, ৭৫ বা ৮০ বছর প্রফেসররা থাকতে পারেন। উন্নত দেশে- ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডায় অধ্যাপক যখন ফিল করবেন তিনি আর থাকতে চাচ্ছেন না, তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাবেন তিনি অবসরে যেতে চান। আমাদের ৬৫ বছর বয়স করেছে, এতে হা-হুতাশ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ৬৫ বছর বয়স ভারত, জাপান, চায়না, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশেই অধ্যাপকদের চাকুরির সীমা ৬৫ বছর রয়েছে।

o আমলার দাম বনাম শিক্ষকের মর্যাদা

o পে স্কেলের খসড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সই করা নোটসিট গায়েব!

o পে স্কেলে বৈষম্য দূর করতে ১৪ সপ্তাহ সময় চায় সচিব কমিটি

o প্রধানমন্ত্রীর বকুনি খেয়ে বৈষম্য সমাধানে তালগোলে অর্থসচিব

o অধ্যাপকরা গ্রেড-১ এ যেতে পারবেন, তবে শর্ত কঠিন

o পে স্কেলে আমলে নেয়া হয়নি প্রচলিত বিধি, আইন ও সুপারিশ

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.